কুয়াদায় যুবলীগ নেতার হাতপার রগ কাটল বিএনপি জামায়াতের ক্যাডাররা ॥ পুলিশের সাথে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ

lash
নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর॥ মণিরামপুরে অবরোধ চলাকালে টহলরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জামায়াত-বিএনপির নেতা কর্মীদের ককটেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং গুলি বর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ১৮ দলীয় জোটের কয়েকজন নেতা কর্মী আটক হলেও পুলিশের ওপর হামলা করে তাদের ছিনিয়ে নেয় জোটের নেতা-কর্মীরা। বুধবার দুপুরে উপজেলার বেগারিতলা ও চালকিডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারসেল ও ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে বলে নিশ্চিত করেছেন মণিরামপুর থানার ওসি মীর রেজাউল ইসলাম।
এর আগে কুয়াদা বাজারে যুবলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম (৩২)এর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। এ ছাড়াও তার উপর বোমা হামলা চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুপুরেই তাকে খুলনা সার্জিক্যাল কিনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কুয়াদা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এর পর বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বেগারিতলায় গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করে বিএনপি জামায়াতের ক্যাডররা। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম আরিফুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেলে জামায়াত বিএনপি’র ক্যাডাররা পলিশের ওপর হামলা চালায় এবং ককটেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ আতœরক্ষার্থে টিয়ার সেল ও সর্টগানের ১২ রাউন্ড ফাকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সুত্র জানায়, এসময় জামায়াত বিএনপি’র ৪ ক্যাডারকে আটক করা হলেও পুলিশের ওপর হামলা করে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। তাদের হামলায় পুলিশের দু’কর্মকর্তা এবং দু’ কনস্টেবল আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল ইসলামের মামা শাহাজান আলী জানান, সদর উপজেলার ১১ নম্বর রামনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম । এলাকার সিরাজ সিংহা গ্রামের আবু বক্কার গাজির ছেলে এবং কুয়াদা বাজারে তিনি কাঠের ব্যবসা করেন। এদিন বেলা ১১ টার দিকে তিনি ওই বাজারের রেজাউল ইসলামের চায়ের দোকান থেকে চা পান করেন। এর পর তিনি পায়ে হেটে গার্লস স্কুলের সামনে দিয়ে নিজের কাঠ গোলার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ফুলুর দোকানের সামনে পৌছানো মাত্র বিএনপি নেতা মোসলেম মেম্বররের নেতৃত্বে ২৫/৩০ জনের একদল জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা তার উপর পর পর দু’টি বোমা হামলা চালায়। বোমার স্প্রিন্টারে বুক ও মুখে লেগে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এর পর বিএনপির ক্যাডার আশিক, অসীম, জুম্মা আক্তার, শফিকুল, ভোজগাতির বাবু, কামাল পুরের মোমিন, জামায়াতের শাহাজান, শিবিরের সেক্রেটারি কামরুল ইসলাম, মুরাদ, ফরহাদ ও হাফেজ বাবরসহ অনেকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এমনকি তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়, এবং ইট দিয়ে তার মাথা থেতলে দেয়। তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুপুর দেড়টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা সার্জিক্যাল কিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে নাজমুল ইসলামকে মারপিটের খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যশোর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মী নাজমুল ইসলামকে দেখতে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, সাবেক সাধারন সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, যুবলীগ নেতা ফন্টু চাকলাদার, জুয়েল প্রমুখ।

শেয়ার