ই-বিপদ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইদানীং প্রায়ই খবর আসছে ফেসবুক ও টুইটারের কারণে কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। এর বেশিরভাগই হয় প্রেমের কারণে, যে প্রেমটা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
একাকিত্ব কাটানোর জন্য অনেকেই ফেসবুক ও টুইটার প্রভৃতি সোশ্যাল মিডিয়ার শরণাপন্ন হন৷ প্রেসার কুকারের সেফটি ভালভের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের প্রাণ উজাড় করে দেন৷ এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই প্রেম নিবেদন করছেন৷ তার পর, মুখোশ খসে পড়ছে৷
কেবল মাত্র মানসিক প্রতারণা নয়, অনেকের সৃজনশীলতা ও নিয়মানুবর্তিতা বিপুল ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে৷ আমাদের আট থেকে আশি অনেকেরই, দিনের একটা বড়ো অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাচ্ছি৷ কর্মক্ষেত্রেও ফেসবুক অথবা টুইটার রাজ্যে ডুব মেরে আসতে গিয়ে, অনেকেই নিজেদের অজান্তে আন্তর্জালে আটকে যাচ্ছে৷
কোনো পোস্ট পড়তে ভালো লাগছে, ভালো লাগা থেকে দিবাস্বপ্ন৷ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে৷ এদিকে কাজের পাহাড়৷ চঞ্চলতা গ্রাস করছে৷ বসের বকুনি অনিবার্য জেনেও আন্তর্জাল ছেড়ে বেরনো কষ্টকর৷ দিনে পাঁচ-ছ ঘণ্টা এক নাগাড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো এখন আর টাইম পাস নয়, বরং আসক্তি বা ‘নির্ভরতা’৷ ড্রাগের নেশার মতো শক্তিশালী, সহজে বেরিয়ে আসা মুশকিল৷
অতিরিক্ত সময় ইন্টারনেটে না থেকে নিজের মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কী কী করতে পারেন, কয়েকটি সহজ পাঠ:
প্রথমত, মনে মনে তৈরি হন, সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে দিন শুরু করবেন না৷
দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, বা ট্যাবে কল রিসিভ করা ছাড়া সমস্ত নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন৷
তৃতীয়ত, প্রতি দিন নির্দিষ্ট কিছু সময় প্রযুক্তির ধরাছোঁয়ার বাইরে যান৷
চতুর্থত, যখন অফিসের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন, সম্ভব হলে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন৷
ই-সমস্যা বাড়বে বলেই মতামত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্ত্ত সমস্যার সমাধান আপনার হাতেই৷

শেয়ার