অবরোধকারীদের পেট্রোল বোমায় দগ্ধ ১৮ বাসযাত্রী ॥ ‘পুড়াইয়া মার’ বলে লেগুনায় আগুন

Bihongo

বাংলানিউজ ॥
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে অবরোধকারীদের পেট্রোল বোমার আগুনে ১৮ জন যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতদের মধ্যে একুশে টেলিভিশনের মুক্ত খবর অনুষ্ঠানের শিশু সাংবাদিক সুস্মিতা ও অ্যাডভোকেট খোদেজা নামে একজন আইনজীবী রয়েছেন।

আহত অন্যরা হলেন গাড়ির চালক মাহবুব, আমজাদ, রাহাদুল, রিয়াদ, মাহি, বাবু, আবু তালহা, নুরুন্নবি, মাসুমা, গীতা সেন, রবিন, শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর ও শামিম। বাকি দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের সকলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

গাড়ির হেলপার জানান, হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক চলতি অবস্থায় গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মেরে আগুন ধরিয়ে দেন।

শাহবাগ থানার এসআই আনার বাংলানিউজকে বলেন, বিহঙ্গ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হাইকোর্ট মোড় হয়ে মিরপুরের দিকে যাচ্ছিল। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। বাসটি তৎক্ষণাৎ না থেমে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে শাহবাগের দিকে টেনে যাচ্ছিল। পরে গাড়িটি থামলেও যাত্রীরা নামতে না পারায় ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ হন।

রমনা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলি নোমান জানান, চলন্ত অবস্থায় বাসটিতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারার কারণে আহতদের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

এদিকে শিশুপার্কের সামনেও একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।১৮ দলের ডাকা অবরোধ চলাকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় লেগুনার এক চালকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অগ্নিদগ্ধ চালক এনামুল হক (২২) কালিয়াকৈর উপজেলার আন্দারমানিক এলাকার আব্দুল কদ্দুসের ছেলে।
অগ্নিদগ্ধ চালক এনামুল বলেন, “সফিপুর বাজারে পৌঁছা মাত্রই ৩/৪জন লোক এসে গাড়ির গতিরোধ করে।
“গাড়ির গেইট বন্ধ করে বলে ‘ওরেসহ পুড়াইয়া মার।’
“এ কথা বলতে বলতেই আমার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
এ ব্যাপারে সফিপুর আনসার একাডেমি হাসপাতালের চিকিৎসক মো. খালিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আগুনে এনামুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানের ১৫ অংশ পুড়ে গেছে।
“যদি তার অবস্থার অবনতি হয় তাহলে এখান থেকে তাকে রেফার্ড করা হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ দলের ডাকা অবরোধের শেষ দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চন্দ্রা থেকে চন্দনা-চৌরাস্তা যাওয়ার পথে সফিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছলে ৩/৪ জন অবরোধকারী লেগুনার গতিরোধ করে।
এ সময় লেগুনার গেইট বন্ধ করে এনামুলের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।
এনামুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সফিপুর আনসার একাডেমি হাসপাতালে ভর্তি করে।
লেগুনা থেকে তাড়াহুড়ো করে নামার সময় অজ্ঞাত চার যাত্রীও আহত হন।
আগুনে লেগুনাটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় লেগুনার মালিক খাজা মইনুদ্দিন ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের নামে একটি মামলা করেছেন।

শেয়ার