১৬ জনকে হত্যা করে খোকন রাজাকার

khokon
বাংলানিউজ ॥
একাত্তরের ৩০ মে খোকন রাজাকার নেতৃত্বে তার সহযোগী রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনারা কোদালিয়া গ্রামে গিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করে এবং ১৬ জন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার পলাতক মেয়র ও বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে স্যা দিতে গিয়ে একথা জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই মোল্লা। তিনি খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে ৪র্থ সাী।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্যা দেন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বনগ্রামের মো. আব্দুল হাই মোল্লা। তার পরে স্যা দেন রাষ্ট্রপরে পঞ্চম সাী একই উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের মো. ইউনুস মোল্লা। প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল তাদের স্যাগ্রহণ করেন। স্যাগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন পলাতক খোকন রাজাকারের পে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান।
বুধবার খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ সাীর স্যাগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
চতুর্থ সাী মো. আব্দুল হাই মোল্লা তার সা্েয জানান, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করার পরে জাহিদ হোসেন খোকন, তার ভাই জাফর, আয়নাল, আতাহারসহ আরো অনেকে স্থানীয়দের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপে কাজ করার জন্য বলেন। স্থানীয়রা তাদের উল্টো স্বাধীনতার পে কাজ করার জন্য বললে তারা এর পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি দেন।
একই কথা জানান এ মামলার পঞ্চম সাী মো. ইউনুস মোল্লাও।
মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই মোল্লা জানান, ১৯৭১ সালে তিনি এইচএসসির ছাত্র ছিলেন। ২৫ মার্চের পরে তিনি নাগারদিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মেজর আজিজ মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সঙ্গে প্রশিণ নেন।
তিনি জানান, ২১ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ফরিদপুর জেলায় প্রবেশ করলে খোকন রাজাকার, তার ভাই জাফরসহ অন্যান্য সহযোগীরা গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের অভ্যর্থনা জানান এবং তাদের সঙ্গে হাত মেলান। পরে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে নগরকান্দায় ফিরে এসে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করেন।
মুক্তিযোদ্ধা হাই মোল্লা জানান, ২৪ এপ্রিল তিনি প্রশিণ থেকে বাড়ি ফেরেন। ২৭ এপ্রিল ভোর ৬টার দিকে জাহিদ হোসেন খোকন, তার ভাই জাফর ও অন্যান্য সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িতে আক্রমণ চালান।
তিনি বলেন, তখন ঘর থেকে বের হয়ে খোকন, তার ভাই জাফর, আয়নাল, আতাহারসহ অন্যান্যদের দেখি। তখন আমি ভয়ে আমাদের বাড়ির পাশের পাটেেত আত্মগোপন করি।
পাটতে থেকে দেখা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আব্দুল হাই বলেন, খোকন ও তার সহযোগীরা আমার ভাই হিরু মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা নাজিম মোল্লা, রহমান মোল্লাসহ আরো অনেকের বাড়ি লুটপাট করে পুড়িয়ে দেন। গ্রাম থেকে ১৯ জনকে ধরেন। পরে দুই জনকে ছেড়ে দিয়ে ১৭ জনকে নগরকান্দা থানায় নিয়ে যান।

শেয়ার