সাতক্ষীরা কাস্টমসে টেন্ডারের নামে সিন্ডিকেট চক্রের লুটপাট ॥ ৩০ টাকার মুরগির বাচ্চায় সরকার পেয়েছে ১৫ টাকা

chick
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ॥ বাজারে বিক্রিত ৩০ টাকা মূল্যের পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা ১৫ টাকায় নিলামে বিক্রয় করা হলেও বাধ্যতামূলক সিন্ডিকেট চক্রের জন্য আরও ৮ টাকা করে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে ১৫ টাকার নিলাম ক্রয় করে মুরগির বাচ্চা আনার সময় ২৩ টাকা করে দিতে হয়েছে। সিন্ডিকেট চক্রের হাতে জিম্মি ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারকে ২ টাকা কম দিয়ে ব্যবসা করা গেলেও সিন্ডিকেট চক্রদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে তারা। সিন্ডিকেট চক্রের জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসতে পাশেই সাময়িক অবস্থিত র‌্যাব কর্মকর্তাদের হস্তপে চেয়েছে নির্যাতিত ব্যবসায়ীরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জান গেছে, গতকাল দুপুরে সাতীরা কাস্টমস গোডাউনে ৩ হাজার ৭০০ পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চার নিলাম ঘোষণা করা হয়। এর জন্যে কাস্টমস কর্তৃপ নিলাম প্রচারের চেষ্টা করলে সিন্ডিকেট চক্রের চাপে সেটি সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে প্রতি পিছ ১৫ টাকা দরে নির্ধারণ পূর্বক ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেয়। কিন্তু মুরগির বাচ্চা নেয়ার সময় আরও ৮ টাকা হারে বৃদ্ধি করে প্রতি পিছ ২৩ টাকা করে জমা দিতে হয় উক্ত ব্যবসায়ীকে। অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেট চক্রটিই প্রতি পিছ ৮ টাকা হারে ২৯ হাজার ৬শ’ টাকা নিয়ে বাচ্চা প্রদান করেন। বছরের পর বছর যুবলীগ নেতা জুলফিকার রহমান উজ্জ্বলের নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি চক্র এভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে আসছে সাতীরা কাস্টমস গোডাউন। কয়েকজন যুবলীগ নেতার মন্তব্য কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ করেই চলতি সরকারের আমলে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত দুই দিনে সাতীরা কাস্টমস গোডাউনের আধিপত্য বিস্তারকারী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক পত্রদূত প্রতিনিধি এম জিললুর রহমানকে সিন্ডিকেট চক্রের প্রধান জুলফিকার রহমান উজ্জ্বল গত ২৩ নভেম্বর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের সময় ০১৭১৬-৫৩৮৭৭৭ নাম্বার মোবাইলে বেপরোয়া হুমকি দেয়। হুমকির সময় উজ্জ্বল জানায়, কাস্টমস আমার বাড়ির অফিস, এখানে আমি থাকবো। আমার বিরুদ্ধে লিখলি কেন। তোর ব্যবস্থা করা হবে। তোকে সাতীরায় থাকতে দেয়া হবে না। আমি দেখছি তুই কি করে থাকিস। আমি যুবলীগ নেতা তুই জানিস না। তুই আমার বিরুদ্ধে লিখেছিস, আমি তোর ব্যবস্থা করছি।
বিষয়টি তাৎণিকভাবে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা পত্রিকার সম্পাদকসহ প্রেসকাব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন তিনি। এদিকে উজ্জ্বলের ব্যাপারে কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তারা জানান, ভাই একমাত্র ব্যক্তির জন্য চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি চেষ্টা করছি সাতীরা থেকে চলে যাওয়ার। তিনি আরও বলেন, টেন্ডারের সময় ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে একদফা টাকা নেবে। তাদেরকে আবার উচ্চ দরে ডাকতে দেয়া হয়না। সে নিজেই ডেকে ফের দ্বিগুন দ্বরে বিক্রয় করে। অবশেষে অফিসে এসে বলে, সাংবাদিক পুলিশ স্থানীয় রাজনীতিক নেতাদের ব্যবস্থা করতে হবে। আপনি আমার ব্যবস্থা করেন। এভাবেই বছরের পর বছর সাতীরা কাস্টমস গোডাউন জিম্মি করে রেখেছে যুবলীগ নেতা উজ্জ্বলের নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি চক্র।

শেয়ার