সমঝোতা হলে পুনঃতফসিল

cec
সমাজের কথা ডেস্ক॥ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে প্রয়োজনে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। প্রয়োজনে নতুন করে নির্বাচনের সব ধরনের কার্যক্রম করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তফসিল ঘোষণার পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে অফিস শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পথে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক হবে।’ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ইসির সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরাও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে দুপুরে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী নির্দিষ্ট সময়ের আগে সেনা মোতায়েন হতে পারে বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করবে।’
তবে কতোদিনের জন্য সেনা সদস্যরা মাঠে থাকবে সেটা তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে কতদিনের জন্য সেনা মোতায়েন হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।’
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আজই চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রচার প্রচারণা করা যাবে না। আশা করছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ হবে এবং পোস্টারসহ যাবতীয় বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা দেখা যাবে।’
রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ নির্বাচনে প্রভাব ফেললে আমরা অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করবো।’
ইসির নির্বাচনী উপকরণ ও দ্রব্যাদি বহনে সমস্যা হলে বিরোধী দলের হরতাল অবরোধ কর্মসূচির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য তফসিলে নির্ধারিত সময় অনেক কম হয়েছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘সাত দিন যথেষ্ট সময়, এর আগেও এই রকম সময় দিয়ে নির্বাচন হয়েছে।’
মনোনয়ন জমাদানের জন্য ২ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করার কথা উল্লেখ করে গতকাল সোমবার তফসিল ঘোষণার পরপরই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তফসিল রিশিডিউল করারও দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিকে, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি উপেক্ষা করে ‘সরকারের চাহিদা মতো তড়িঘড়ি করে’ তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালক করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ভোট কেন্দ্রে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীও মোতায়েন থাকবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই ও বাছাইয়ের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। আর ১৩ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

শেয়ার