রূপসার ব্যবসায়ী বাবুল হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে ॥ আদালতে দু’ আসামির স্বীকারোক্তি ॥ জবানবন্দির আরেক আসামি আটক

এস এম সাঈদুর রহমান সোহেল ,খুলনা ব্যুরো ॥ রুপসা উপজেলার ব্যবসায়ী বাবুল খান হত্যাকান্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। মামলার দু’ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় হত্যাকান্ডের মোটিভও উদঘাটিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ই¯্রাফিল নামক আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপসা থানার এস.আই আব্দুল করিম জানান, গত সোমবার খুলনার পুলিশ সুপার কার্যালয় এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম ও বাচ্চু নামক দু’জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যবসায়ী বাবুল খান হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে মোতাবেক মঙ্গলবার তাদের খুলনার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজীর করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছে, সে নিজে এবং ই¯্রাফিল ও বাচ্চুসহ আরও ৪/৫জন এ হত্যাকান্ডে অংশ নেয়। কারণ হিসেবে জানায়, ব্যবসায়ী বাবুল খান একটি গণ ধর্ষণ মামলায় তাদের আসামি করেছিল। এ কারণে তাদের জেল খাটতে হয়েছে। প্রতিশোধ নিতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যা পরিকল্পনার কথা বাবুল খানের দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা বেগম জানতো বলে তারা জানিয়েছে। এদিকে দু’জনের স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে পুলিশ জাবুসা এলাকা থেকে এ মামলায় ই¯্রাফিল নামক আরও একজনকে আটক করেছে। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া আসামি রফিকুল ইসলাম ব্যবসায়ী বাবুল খানের শ্যালক এবং বাচ্চু তার ফুফাতো শ্যালকের ছেলে। উল্লেখ্য, গত ১৯ আগষ্ট রাত ১২ টারদিকে রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামের বাড়ি থেকে অপহৃত হন। ২৫ আগষ্ট পুলিশ খানজাহান আলী (র.) সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাবুলের স্ত্রী খাদিজা বেগম ২৪ আগষ্ট গোলাম মোস্তফা ওরফে ট্যারা মোস্তকে প্রধান আসামি করে রূপসা থানায় মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এজাহারভূক্ত অন্য আসামিরা হচ্ছে সেন্টু ফারাজী, বেবী বেগম, মানিক খাঁন, তনুরা খাতুন, আবুল হাসান শেখ, আকুব্বার ও হেলেনা বেগম।

শেয়ার