খুলনায় অবরোধে ট্রাক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি আ.লীগের ॥ সিটি মেয়র ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত : গ্রেফতার ২১

খুলনা ব্যুরো॥ খুলনায় সহিংস ঘটনার মধ্যদিয়ে ১৮ দলীয় জোট আহুত ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার মহানগর ও জেলায় রেল লাইনে আগুন ও যানবাহন ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। নগরীর মজিদ স্মরণীতে র‌্যাবের গাড়িতে একটি ককটেল নিপে করে অবরোধ সমর্থকরা। অবরোধ চলাকালে কেসিসি মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামানসহ ১৮ দলীয় জোটের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এ সময় সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর জোন) টিএম মোশাররফ হোসেন আহত হন। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮জনকে গ্রেফতার করে। তাৎক্ষনিক আ.লীগের নেতারা এসব নৈরাজ্যের সাথে জড়িত জামায়াত-বিএনপি’র ক্যাডারদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
সকাল ৭টায় মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির নেতৃত্বে পিটিআই মোড় থেকে মিছিল বের হয়ে সিটি কলেজ, শান্তিধাম, ফেরিঘাট, মীনা বাজারের মোড় হয়ে ষ্টেশন রোডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। একই সময় সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের দুটি মিছিল ওই স্থানে আসে। মিছিল তিনটি একত্রিত হওয়ার পর ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ও ১৫/২০টি ট্রাকের গ্লাস ভাংচুর করে। পুলিশ তাদেরকে উদ্দেশ্য করে ২০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের ছররায় রবিউল ইসলাম রবি, নজরুল ইসলাম, রাসেল, সোহাগ ও আমিন হোসেন মিঠু আহত হয়। এছাড়া লাঠিচার্জ ও ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে রাস্তা অবরোধ করে। সকাল সাড়ে ৭টায় কেসিসির মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনির নেতৃত্বে হাজী মহসিন রোড থেকে একটি মিছিল বের হয়ে নতুন বাজার রূপসা মোড়ে জমায়েত ও ট্রাফিক মোড়ে সমাবেশ করে। এখানে মেয়রের সাথে পুলিশের বাকবিতন্ডা হয়। ১০টার দিকে সমাবেশ শেষ করে মেযর মোঃ মনিরুজ্জামান মনির নেতৃত্বে মিছিলটি খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার সামনে পৌছালে পেছন দিক থেকে ছাত্রদল কর্মীরা ইজিবাইক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও শটগানের গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ময়েজউদ্দিন চুন্নু, যুবদল নেতা মেহেদী হাসান সোহাগ, ও ছাত্রদল কর্মী মোঃ রিয়াছাদকে আটক করে। এ সময় কেসিসির মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েদ, বিএনপি নেতা মোঃ মইনউদ্দিন, যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা হিরা, বেল্লাল সহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। তাদেরকে বিভিন্ন কিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বেলা সাড়ে ১২টায় বিএনপি অফিসে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি বলেন, পুলিশ ও শাসক দলের ক্যাডাররা বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলা-গুলি-টিয়ার সেল চালিয়ে আন্দোলন বন্ধ হবেনা বরং তা আরো তীব্র রূপ নেবে। এ সময় মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক এমপি অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, মোল্লা আবুল কাশেম, বিজেপির সাধারন সম্পাদক সিরাজউদ্দিন সেন্টু, খেলাফত মজলিসের মাওলানা নাসিরউদ্দিন, মুসলিম লীগের এ্যাড. আক্তার জাহান রুকু, অধ্যাপক আমির আলী, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম বাবু, শেখ হাফিজুর রহমান, আসাদুজ্জামান মুরাদ, সিরাজুল হক নান্নু, মেহেদী হাসান দীপু, মহিবুজ্জামান কচি, শফিকুল আলম তুহিন, শের আলম সান্টু, আজিজুল হাসান দুলু, এহতেশামুল হক শাওন, শেখ সাদী, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, সাজ্জাদ হোসেন তোতন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, আরিফুজ্জামান আরিফ, কামরান হাসান, এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মেয়রের ওপর হামলার প্রতিবাদে কেসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষনিকভাবে কর্ম বিরতি এবং নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। আজ বুধবার সকাল ১১টায় নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেয় তারা। এদিকে বোমা হামলাকারী ও ভাংচুরের সাথে জড়িত জামায়াত-বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি. মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহ্জ্বা তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ এস.এম মোস্তফা রশিদী সুজা, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ১৪দলের সমন্বয়ক ্অলাহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমল আহমেদ তপন, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী, খানজাহান আলী থানা সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী, খালিশপুর থানা সভাপতি এ.একে.এম সানাউল্লাহ নান্নু, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি আবুল কালাম আজাদ কামাল, সদর থানার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক মনিজ্জামান খান খোকন, খালিশপুর থানা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাশার, খানজাহান আলী থানা সাধারণ সম্পাদক স.ম রেজওয়ান, সোনাডাঙ্গা থানা সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান পারভেজ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আজাদ বলেন, শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখা এবং সাধারণ জনগনের চলাচল নির্বিঘœ করার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং হবে। তিনি জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। অবরোধকারীদের হামলায় সহকারী পুলিশ কমিশনার টিএম মোশাররফ হোসেন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

শেয়ার