খালেদার নির্দেশেও রাজপথে নামেননি শীর্ষ নেতারা ॥ মাঠে নেই বিএনপি

BNP8ledar
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অবরোধ ডেকেও মাঠে নেই ১৮ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই অবরোধ সফল করতে রাজধানীতে প্রবেশের ৮টি পয়েন্টে অবস্থানের দলীয় নির্দেশনা ব্যর্থ হতে বসেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে লাগাতার ৪৮ ঘণ্টার দেশব্যাপী সড়ক-নৌ-জলপথ অবরোধ শুরুর অনেক আগেই জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঠে থেকে কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও কার্যত তা হয়নি।
মাঠে নামা তো দূরে থাক, অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতাই মোবাইল ফোন বন্ধ করে আন্দোলনের মাঠ থেকে সরে আছেন। কারো কারো ফোনে রিঙ হলেও রিসিভ করছেন না। আর শীর্ষ নেতাদের এই লুকোচুরি খেলায় সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝেও চরম হতাশা বিরাজ করছে।
সোমবার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরপরই সরকার পতনে বেশ হুমকি দিয়ে লাগাতার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেয় ১৮ দলীয় জোট। কিন্তু কর্মসূচি দিয়েই লাপাত্তা হয়ে যাওয়া জোট ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল প্রমুখ।
অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এদের মধ্যে কেবল দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-মহাসচিব রুহল কবির রিজভী আহমেদ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অবস্থান করছেন। অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার অপর যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানকে দেখা গেছে নেতাকর্মী নিয়ে সড়ক অবরোধ করছেন।
কিন্তু ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল কোথায় আছেন সে খোঁজ সাংবাদিক তো বটেই, নেতাকর্মীদের কাছেও নেই।
কর্মসূচি ঘোষণার সময় তাকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেখা গেলেও তারপর থেকে আর খোঁজ মিলছে না তার।
বাংলানিউজের পক্ষ থেকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে কেবল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের ফোন খোলা পাওয়া যায়। তবে নিজেকে অসুস্থ দাবি করে তিনিও কথা বলতে চাননি।
জোট ও বিএনপির অনেক পরীক্ষিত নেতাকর্মী বাংলানিউজের কাছে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের দেখাদেখি ঢাকা মহানগর বিএনপির অনেক ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাও মাঠে নামছেন না। এতে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে। সুবিধাভোগী কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ করেন অনেকে।
সিনিয়র নেতাদের মাঠে অনুপস্থিতি, আত্মগোপন এবং এমন সুবিধাবাধী আচরণে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মনে করছেন দলটির পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
দলের নেতাদের আত্মগোপন ও মাঠে অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রুহল কবির রিজভী আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বিএনপি নেতারা আত্মগোপনে নেই, সবাই আন্দোলনে আছেন।
আত্মগোপনে থাকার ব্যাপারটিকে আন্দোলনের কৌশল বলেও দাবি করেন তিনি রিজভী।

শেয়ার