অবরোধে সহিংসতায় বিজিবি সদস্যসহ নিহত ৬

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ চলাকালে সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সদস্য, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, যুবলীগ কর্মী, পথচারী ও এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলায় ১৮ দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসে। এসময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংর্ঘষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয় পথচারীসহ অবরোধকারীরা।
কুমিল্লায় অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া বগুড়া যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে। সাতীরায় অবরোধকারীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে মাহবুবুর রহমান বাবু নামে যুবলীগ নেতা ও রবিউল ইসলাম নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লায় বিুব্ধ অবরোধকারীদের হামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক জওয়ান নিহত হয়েছেন। এসময় গুরুতর আহত হয়েছে এক পুলিশ সদস্য। নিহত বিজিবি জওয়ানের নাম রিপন (২৫)।
সন্ধ্যায় বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা চর্থা এলাকায় টহলরত অবস্থায় বিুব্ধ অবরোধকারীরা হামলা চালায়। এসময় বিজিবি ও পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবরোধকারীরা বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের ল্য করে ইটপাটকেল এবং ককটেল নিপে করে। এতে বিজিবি জওয়ান রিপন (২৫) এবং পুলিশ সদস্য মাহমুদুল হাসান গুরুতর আহত হয়। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেয়ার পর বিজিবি জওয়ান রিপন মারা যায়।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাকসামে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৬জন। নিহত রিকশা চালক বাবুল মিয়া (৪৫) লাকসামের অশোকতলার বাসিন্দা।
সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় বেয়ারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বাবুকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করে অবরোধকারীরা। নিহত বাবু কোলারোয়া উপজেলার সলীমপুর গ্রামের আলাদ গোলাম মোড়লের ছেলে।
বিকেলে দেয়াড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম তার বাড়ি থেকে বিকাল ৫ টার দিকে দেয়াড়া বাজারে আসার পথে জামায়াত শিবির ক্যাডাররা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরপরই পুলিশ বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌছালে তারা লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া সদর পৌর এলাকার সয়াধানগড়া এলাকায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ছাখমান আলী নামের এক পথচারী নিহত হয়। এ ঘটনায় ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
নিহত ছাখমান আলী (২৬) সদর উপজেলার মাছুয়া কান্দি এলাকার সামেদ আলীর ছেলে। তিনি সয়াধানগড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কাজ করতেন।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের বনানী মোড়ে যুবদল-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিতে যুবদল নেতা ই্উসুফ হোসেন নিহত হয়েছে। নিহত ইউসুফ শহরের ২১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

শেয়ার