সীতাকুণ্ড ও শান্তি

রাজধানীসহ সারাদেশের পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল মনে হলেও বিএনপি-জামায়াত জোটের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত। আবার কখন ধ্বংসাত্মক তা-ব শুরু হয়। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থিত সীতাকু- যেন সবার কাছে ধ্বংস ও সহিংসতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের জন্য জামায়াত-শিবির চক্র সীতাকু-কেই হামলার অন্যতম মূল ল্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকু-কে কেন্দ্র করে যে অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠেছে তাও হুমকির মুখে পড়েছে। হরতালকালে হত্যা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও তা-বের কারণে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেমন বিনষ্ট হচ্ছে তেমনই বাংলাদেশের অর্থনীতিও তিগ্রস্ত হচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হয়, একদল দুর্বৃত্ত যেন গলা টিপে দেশের অর্থনীতির বিকাশকে স্তব্ধ করতে চায়। এরা কি জানে না, এর ফলে সবচেয়ে অসুবিধায় পড়বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ? এ কথা ভুললে চলবে না যে, এখনও আমাদের তিরিশ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। এসব নিম্ন আয়ের মানুষের পে দু’বেলা অন্নের সংস্থান করা কষ্টকর। হরতালকালে সহিংসতা ও তা-বের কারণে এদের অনেকেরই কাজকারবার বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া আগামী সাধারণ নির্বাচনও হুমকির সম্মুখীন। এ কারণেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প থেকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা যেন নির্বাচনকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখে এবং সব ধরনের সহিংসতা থেকে বিরত থাকে। বৃহস্পতিবার রাতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক কর্ম অধিবেশনে এ আহ্বান জানানো হয়। জানা গেছে, এ বিষয়ে সেখানে একটি প্রস্তাবও গৃহিত হয়। তবে এসব ন্যায়নীতি ও আহ্বানের কোন গুরুত্বই নেই বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে, এটা এখন স্পষ্ট। গত শুক্রবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, নির্দলীয় নিরপে সরকারের ব্যবস্থা না করে যেদিন তফসিল ঘোষণা করা হবে সেদিন থেকেই বাংলাদেশ অচল করে দেয়া হবে। এমনিতেই লাগাতার হরতালের কারণে দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ছে, তার ওপর যদি রাজনৈতিক কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দেশকে অচল করে দেয়া সম্ভব হয়, তবে তা বাস্তবিকই এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের দিকে দেশকে ঠেলে নিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রধান দায়িত্ব দেশের মানুষের কল্যাণ করা। কিন্তু লাগাতার তা-ব ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের কি উপকার হচ্ছে? হরতালের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে লাভ কি? জামায়াত-শিবির চক্র সীতাকু-ে এক অরাজক অবস্থার সৃষ্টির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। তারা কোন সৎ পরামর্শই শুনতে রাজি নয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এেেত্র সরকারের উচিত, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকু-সহ দেশের অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। এসব জায়গায় র‌্যাব ও পুলিশের টহল বাড়াতে হবে। যারা তা-ব চালাচ্ছে তারা যে দেশের ন্যূনতম মঙ্গল চায় না তা তাদের কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। পর্যবেকদের ধারণা, নির্বাচন বানচালের জন্য এরা সব কিছুই করতে পারে। এ জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি দরকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা জরুরী।

শেয়ার