শিরোপার লড়াইয়ে গাজী ট্যাংক-দোলেশ্বর

leg
বাংলানিউজ ॥
শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ। এখন শুধু শিরোপা জয়ের অপেক্ষা। শিরোপা দখলের লড়াইয়ে একক আধিপত্য দেখাতে পেরেছিল গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স। কিন্তু সুপার লিগের চতুর্থ রাউন্ডে মোহামেডানের কাছে হেরে তারা সুযোগ করে দিল প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকেও। দুদলেরই সমান ২০ পয়েন্ট। আর তাই গাজী ট্যাংক ও দোলেশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা একরকম অঘোষিত ফাইনাল। ঘরোয়া শীর্ষ ক্রিকেট লিগের এই ফাইনাল যেন আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয় সেজন্য ম্যাচটি ফতুল্লা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলায়। আর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বুধবারের ম্যাচটি একদিন পেছানো হয়েছে।

দুদলের লড়াইয়ে যারা জিতবে তাদের হাতেই শিরোপা যাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সমান ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও চারে মোহামেডান। শেষ রাউন্ডের আনুষ্ঠানিকতার লড়াইয়ে এদিন মোহামেডান লড়বে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেটার্সকে, আর কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মুখোমুখি হবে শেখ জামাল।

সবগুলো ম্যাচই হবে বুধবার সকাল ৯টায়। ফতুল্লায় লড়বে মোহামেডান, আর সাভারে অবস্থিত বিকেএসপির দুই নম্বর মাঠে জামাল।

গাজী ট্যাংক সুপার লিগে টানা তিন জয়ের পর একমাত্র ম্যাচ হেরেছে মাশরাফি মুর্তজার দলের কাছে। দারুণ এই সাফল্যের পথে ব্যাটসম্যান হিসেবে ইমরুল কায়েস এগিয়ে। প্রথম পর্বও দলকে শীর্ষে রাখার পথে এই ওপেনার সর্বাধিক ১০৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। একমাত্র শতক ও চারটি হাফ সেঞ্চুরি নিয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত রান সংগ্রহকারীর তালিকায় ৬১৫ রান করে শীর্ষে তিনি।

সবচেয়ে বেশি রানের হিসাবে শীর্ষ দশে আছেন গাজী ট্যাংকের আরেক তারকা। কলাবাগানের হ্যামিলটন মাসাকাদজা (৫৫১) ও শেখ জামালের মুশফিকুর রহিমের (৫৩১) পর চার নম্বরে গাজী ট্যাংকের রকিবুল হাসান। ৫২৪ রানের পথে সর্বোচ্চ ৯৮ রানের হার না মানা ইনিংসসহ সবচেয়ে বেশি পাঁচটি ফিফটি হাঁকিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ফর্মে আছেন দলটির অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সুপার লিগে সর্বশেষ ম্যাচে করেছেন ১০৬ রান।

দোলেশ্বরের হয়ে সর্বোচ্চ রান মেহেদী মারুফের। তিনটি ফিফটিসহ ৪১৬ রান তার। এই দলের বিদেশি তারকা হিসেবে জ্বলন্ত ব্যাটিং পারফরমেন্স করেছেন ডেউইড মালান। নিজের প্রথম দুই ইনিংসে ৮৩* ও ৭৫ রান করেছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। গত ম্যাচে কলাবাগানের বিপক্ষে দলকে জেতাতে খেলেছেন ১২৩ রানের সেরা ইনিংসও। মাত্র সাত ম্যাচ খেলে ৪০১ রানে দোলেশ্বরের দ্বিতীয় সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। জাতীয় দলের তারকা বনে যাওয়া মমিনুল হক একটি সেঞ্চুরি বাদে তেমন উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। শেষ ম্যাচে এসে তার ব্যাটও চমক দেখাতে পারে।

উইকেট শিকারের দলেও সবার উপরে গাজী ট্যাংক। আরাফাত সানি ২৯ উইকেট নেন। একটি কম নিয়ে অবশ্য তার পরেই আছেন দোলেশ্বর অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। গাজী ট্যাংকে আছেন জাতীয় দলের সদ্য হ্যাটট্রিক পাওয়া রুবেল হোসেন। দোলেশ্বরের জন্য বল হাতে রুবেল ও সানি হুমকি হলেও ফরহাদের সঙ্গে স্পিনার তাইজুল ইসলাম গাজী ট্যাংকের দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর জন্য ত্রাস সৃষ্টি করতে পারে আরেক স্পিনার সাব্বির রহমান। দোলেশ্বরের এই স্পিনারের দখলে ১৮ উইকেট।

চলতি মৌসুমে দুদল একবার মুখোমুখি হয়েছিল মাঠে। প্রথম পর্বের খেলায় ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৩ রানে জিতেছিল দোলেশ্বর। পাঁচ ম্যাচে টানা চতুর্থ জয় নিয়ে তখন আকাশে উড়ছিল ফরহাদ রেজার দল। সমান ম্যাচে ওটা কেবল দ্বিতীয় হার ছিল মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর।

পরে দুদলই যেভাবে খেলেছে তাতে করে অঘোষিত এই ফাইনাল যে একপেশে হবে সেটা ভাবা বোকামি। দুদলই তাদের সেরা পারফরমার নিয়ে হাজির হবে শিরোপার লড়াইয়ে। বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যেই জানা যাবে কঠিন লড়াই শেষে কার হাতে উঠল শিরোপা।

শেয়ার