‘রাষ্ট্রপতি চেষ্টা করছেন’

Akborali
সমাজের কথা ডেস্ক॥ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সচেষ্ট রয়েছেন বলে তার সঙ্গে দেখা করে এসে বলেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান।
নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ডাকা অবরোধে সহিংসতার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে যান ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নাগরিক সমাজের ছয় ব্যক্তি।
ড. কামালের সঙ্গে আকবর আলি ছাড়াও যান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও জামিলুর রেজা চৌধুরী, আইনজীবী শাহদীন মালিক ও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আকবর আলি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি। তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
“তবে এই পরিস্থিতিতে সমাধান খুঁজে পেতে তিনি চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রপতি আমাদের জানিয়েছেন, সাংবিধানিক কারণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করতে পারবেন না, যা করার অনানুষ্ঠানিকভাবে করবেন।””
সমাধানের জন্য কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়েছে কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট কোনো পরামর্শ আমরা দিইনি। আমরা শুধু বলেছি, বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হবে গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়কর।”
সঙ্কট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন আকবর আলি।
“সমাধান শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে নয়, জোটগুলোরও দায়িত্ব আছে।”
তবে কোনো পরামর্শ প্রয়োজন হলে, তা দিতে রাজি থাকার কথা রাষ্ট্রপতিকে বলে এসেছেন এই ছয়জন।
তারা বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত থাকলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এই সাক্ষাৎ বলে জানান গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।
রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে আকবর আলি বলেন, “রাজেনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে গিয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যায় না, তাই আমরা তাদের কাছে যাচ্ছি না।”
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘সর্বদলীয়’ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথে এগোলেও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।
এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সোমবার দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে তা প্রত্যাখ্যান করে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকে বিরোধী দল। এই কর্মসূচিতে সংঘাতে এই পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছে।
চলমান সংঘাতে রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হলেন কামাল হোসেনসহ ছয়জন।
২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকাররে ছিলেন আকবর আলি। ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নেতৃত্বাধীন ওই সরকারে তার সঙ্গে আইন সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালও ছিলেন। তারা দুজনই পদত্যাগ করেছিলেন।
ওই সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয়। এরপর সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জরুরি অবস্থা জারি হয়, দুই বছর কার্যত সেনাশাসনে থাকে দেশ।
বুয়েটের অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। বদিউল আলম নাগরিক সংগঠনের সুশাসনের জন্য নাগরিকের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্বে করছেন।

শেয়ার