দেবহাটায় পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবিরের হামলা॥ অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ॥ আহত ২০

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥
সাতক্ষীরায় দেবহাটা উপজেলার গরানবাড়িয়া এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল থেকে স্থানীয় গরাণবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে জামায়াত-শিবির হামলা চালালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যার পরে গরানবাড়িয়া এলাকায় জামায়াত-শিবির একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি গরানবাড়ি অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে হামলা করে। সেখানে কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।
দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুর মোহাম্মদ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় গরাণবাড়িয়া থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আবু রায়হান হত্যা মামলায় জামায়াত কর্মী মহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। পরে গ্রামের লোক সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের ওপর শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে জামায়াত-শিবিরের ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন কিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দেবহাটা থানার ওসি তারক বিশ্বাস জানান, জামায়াত-শিবির কর্মীরা স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায় এবং কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। রাত পৌনে ৮ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কতজন আহত হয়েছে তা বলতে পারেননি তিনি।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোল্যা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ ৫০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশের কোন সদস্য হতাহত হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

শেয়ার