দাকোপের পোদ্দারগঞ্জ খেয়াঘাটে আদায় করা হচ্ছে সরকারি তালিকা ছাড়াই অতিরিক্ত টোল

Dacop
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি॥ খুলনার দাকোপ উপজেলার অধিকাংশ খেয়াঘাটগুলির ইজারাদাররা কোন প্রকার সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অতিরিক্ত টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘাটে টোল আদায়ের মূল্য তালিকা ঝুলানোর কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এদিকে পোদ্দারগঞ্জ খেয়াঘাট ইজারাদার আফজাল খানের অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিকার চেয়ে বাজুয়া ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন।
সূত্রে জানা যায় চারিদিকে নদী বেষ্টিত ৩টি দ্বীপ নিয়ে দাকোপ উপজেলা গঠিত। এখানে নদী পারাপারের জন্য খেয়াঘাটের সংখ্যাই বেশী। উপজেলা আন্তঃ জেলা খেয়াঘাট ৪টি, যা হচ্ছে- দিগরাজ-খুটাখালী, বানীশান্তা-মংলা, চালনা-কাপাসডাঙ্গা ও চুনকুড়ি-মইদাড়া ঘাট। এছাড়া আন্তঃ উপজেলা খেয়াঘাট ৭টি হচ্ছে কাটাবুনিয়া- বুনারাবাদ, গুনারী-শান্তা, নলিয়ান-হড্ডা, পানখালী-বরনপাড়া, মৌখালী-বটিয়াঘাটা, লক্ষ্মীখোলা- দেলুটী ও গড়খালী-পাইকগাছা এবং আন্তঃ ইউনিয়ন ১৯টি ঘাট হচ্ছে পানখালী, নলিয়ান, গড়খালী, লক্ষ্মীখোলা, মৌখালী, খলিসা, বাজুয়া, চালনা, পোদ্দারগঞ্জ, দাকোপ, কালিনগর, ঠাকুর বাড়ি, সুতারখালী, জয়নগর ও জালিয়াখালী। ঘাটগুলি প্রকৃত পাটনীজীবীদের মধ্যে ইজারা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ঘাট তা দেওয়া হয়নি। বহিরাগত ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই প্রতিবছর নানা কৌশলে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে ঘাটগুলি ইজারা নেয়। এ সকল ব্যক্তিরা ইজারা নেওয়ার পর অর্থ আদায়ে পটু কিছু চিহ্নিত ব্যক্তিদের ঘাটে বসিয়ে সরকারি মূল্য তালিকা ছাড়াই অতিরিক্ত টোল আদায় করে বলে স্থানীয় জনসাধারণ ও যাত্রীদের অভিযোগ। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে শালিশ বিচারও করতে দেখা গেছে। প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রীদের সংগে অসদাচারণ করলেও প্রতিটি ঘাটের নেপথ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাত থাকায় এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে বা প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আবার এ সকল ঘাট গুলিতে রাত ৮ টার পরের চিত্র অন্যরকম। রাত ৮ টার পরে বিশেষ করে পোদ্দারগঞ্জ, পানখালী, দীগরাজ খুটাখালী সহ ৭/৮ টি ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও পার হওয়া কষ্টকর ব্যাপার। পরে তাদের মর্জিতে পার হতে গেলে তখন জন প্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা আদায় করা হয়। রাত্রে তাদের ইচ্ছায় ঘাট চলে। পোদ্দারগঞ্জ খেয়াঘাট ইজারাদার আফজাল হোসেন খানের অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ৯ অক্টোবর ৮নং বাজুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য অশোক সরকার অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিম‘র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি প্রতিটি ঘাট ইজারাদারকে চিঠি দিয়ে ঘাটে টোল আদায়ের মূল্য তালিকা ঝুলানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি। যদি কেউ এ নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করব। এদিকে প্রতিটি ঘাটে দ্রুত টোল আদায়ের মূল্য তালিকা ঝুলানোর দাবী ও আইন অমান্যকারী বেপরোয়া ইজারাদার আফজাল খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল।

শেয়ার