কালীগঞ্জ ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ॥ ঘুষ দিয়ে হরহামেশাই থানা থেকে ছাড়া পাচ্ছে অপরাধী

Monir
কবির হোসেন, কালীগঞ্জ থেকে ফিরে॥
ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দালাল নিয়োগ, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন, আসামি ধরে এনে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া, মামলা করতে টাকা নেয়াসহ বহুবিধ অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ মনির উদ্দীন মোল্ল্যা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২২ অক্টোবর ওসি মনির উদ্দিন মোল্যা থানায় যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের থানায় ডেকে সরাসরি ঘুষ আদায়ের কাজ শুরু করেন। যারা তার প্রস্তাবে সম্মত হননি তাদের বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওসির এসব কাজে সহযোগিতা করছেন দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ থানায় কর্মরত এএসআই নাসির উদ্দীন ও হাবিব সর্দার। ওসির এসব কর্মকা্েন্ড ফুঁসে উঠেছে কালীগঞ্জের সাধারন মানুষ। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ওসি মনির উদ্দীন মোল্ল্যা কালীগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক স্পট গুলো উম্মুক্ত হয়ে গেছে। তিনি নিজেই বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের থানায় ডেকে এনে অথবা মোবাইল ফোনে তাদের সাথে কথা বলে মাসিক চুক্তি করেন। থানায় কেউ মামলা করতে বা জিডি করতে গেলে তাদের কাছেও মোটা অংকের টাকা দাবি করেন তিনি। ওসির বিতর্কিত কর্মকান্ডে থানা পুলিশের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওসির সাথে মত দ্বন্দ্বেন কারণে একজন এসআই, একজন এএসআই ও তিনিজন কনস্টেবলকে থানা থেকে ইতোমধ্যে বদলী হতে হয়েছে। একাধিক সুত্রমতে, গত ৩১ অক্টোবর কালীগঞ্জ শ্রীলক্ষী সিনেমা হলের সামনে থেকে দুই গাজাসহ জাহাঙ্গীর ও নজরুল নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নেয় এএসআই হাবিব সর্দার। পরে থানায় নিয়ে ওসির সহযোগীতায় তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। একই দিন রবিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা ডাক্তার নুরুল ইসলাম ইসলামকে আটক করা হয়। পরে রবিউলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও নুরুল ইসলামকে কোর্টে পাঠানো বাবদ ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওসি। একই রাতে শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রুপসী বাংলা হোটেলের পরিচালক কাজী আমিনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে ওসি মনির উদ্দীন মোল্ল্যা। এছাড়া ১০/১১/২০১৩ তারিখে কাশিপুরের মাদক ব্যবসায়ী লাভলুকে আটক করে ২৫ হাজার ও ১২//১১/২০১৩ তারিখে হেরোইন ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে আটক করে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ২১/১১/২০১৩ ইং তারিখে মদন নামের এক মাতালকে আটক করে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন ওসি। ২৪ নভেম্বর তিন গরু ব্যবসায়ীকে থানায় ধরে এনে তাদের তাদের ডাকাত হিসেবে চালান দেয়ার ভয় দেখিয়ে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেবার ঘটনা পুলিশের উর্ধŸতন কর্মকর্তারা জানার পর তিনি বর্তমানে কৌশল অবলম্বর করছেন। এখন আসামি ধরে বাইরে রেখে মোবাইল ফোনে কন্ট্রাক করে টাকা নেয়া হচ্ছে। টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে আর না দিলে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আর এসব কাজ করছেন থানার এএসআই নাসির উদ্দীন। ওসির অবৈধ আয়ের এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কালীগঞ্জ থানার এএসআই নাসির উদ্দীন ও হাবিব সর্দারের উপর। এদিকে ওসি মনির উদ্দীন মোল্ল্যা ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করার জন্য উপজেলার লাউতলার ফারুক নামের এক দালাল নিয়োগ করেছেন। কালীগঞ্জের ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী বানুড়িয়া গ্রামের সামাদ, টিপু, জুম্মা, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফজলু, বিপুল, নুর নবী, মিজানুর রহমান বটা, বালিয়াডাঙ্গা পশ্চিম পাড়ার জাফরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ডেকে ওসি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মাসোয়ারা পাচ্ছেন নিয়মিত।
যোগাযোগ করা হলে ওসি মনির উদ্দীন মোল্ল্যা জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের নামে দেন, ধরে এনে ব্যবস্থা নেব। ওসি’র বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে কথা হয়েছে সার্কেল এএসসি মোঃ জাহিদুল ইসলামের (পিপিএস) সাথে। তিনি জানান, উর্ধ্বতন কর্তকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখা হবে।

শেয়ার