অবরোধে রেলপথজুড়ে নাশকতা

mymensingh
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দলের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, লালমনিরহাটসহ বিভিন্নস্থানে রেলপথজুড়ে নাশকতায় ট্রেন চালচাল দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় দিকে ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। কসবায় রেললাইন উপড়ে ফেলার পাশাপাশি দুটি ট্রেনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে অবরোধকারীরা।
রেলস্টেশনে হামলা হয়েছে লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর স্টেশনেও। বিভিন্ন স্থানে লাইন বন্ধ থাকায় ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলো পথে আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ভোগান্তির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
রেলওয়ের ঢাকা ডিভিশনাল ম্যানেজার সরদার শাহাদাৎ আলী বলেন, “নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এ কারণে ট্রেন ছাড়া এবং গন্তব্যে পৌছানোর ক্ষেত্রে কিছু হেরফের হচ্ছে। কিছু বিশৃঙ্খলা এবং নাশকতার খবর আমরা পেয়েছি, একারণে সতর্ক থাকছি।”
কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার খায়রুল বশির জানান, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গমুখী কয়েকটি ট্রেন সকালে ছেড়ে গেছে। তবে সোমবার আখাউড়ার দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম লাইনের ট্রেন সময়মতো ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।
অবরোধকারীরা মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে ময়মনসিংহের শ্যামগঞ্জে রেল লাইনের ফিসপ্লেট খুলে ফেলায় ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হন।
ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ময়মনসিংহের সঙ্গে নেত্রকোনার রেল বন্ধ রয়েছে বলে গৌরীপুর থানার ওসি হামিদুল ইসলাম জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রেললাইনের স্লিপার উপড়ে ফেলায় মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বন্ধ রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্রগ্রাম-সিলেট পথে ট্রেন চলাচল।
এরই মধ্যে সকাল ১০টার দিকে কসবা ইমামবাড়ি স্টেশনে অবরোধকারীরা চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন দিয়েছে। এতে একটি বগি পুড়ে গেছে, তবে কেউ আহত হননি বলে কসবার স্টেশন মাস্টার প্রণব কান্তি বড়ুয়া জানান।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে কসবা থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেশন মাস্টার অমৃত লাল সরকার জানান , লাইন বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতি স্টেশনে আটকে আছে। এরই মধ্যে সকাল ১১টার দিকে অবরোধকারীরা ট্রেনে হামলা চালায় এবং কাচ ভাংচুর করে।
এ সময় তারা কয়েকটি ককটেল ছোড়ে। তবে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি বলে স্টেশন মাস্টার জানান।
অবরোধকারীরা সকালে ভাংচুর চালিয়েছে লালমনিরহাটের মহেন্দ্রনগর রেল স্টেশনেও।
এ সময় বাধা দিতে গেলে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে
স্টেশন মাস্টার তপন কুমার দাস জানান, সকালে অবরোধকারীরা স্টেশনে এসে দরজা-জানালা ভাংচুর করে এবং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধাওয়া করে।
এ ঘটনায় লালমনিরহাট ও বগুড়ার বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে।
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে মহুয়া ট্রেনের চালককে আটক ও মারধোরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের মাস্টার জিয়াউদ্দিন সরদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালককে উদ্ধঅর করার পর ট্রেনটি ছেড়ে যায়।
সকালে চাঁদপুর শহরেও রেললাইনে আগুন দিয়ে অবরোধ করেছে বিরোধী দলের কর্মীরা।

শেয়ার