হরিনাকুণ্ডুতে ফের বড় ধরণের নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মিরা

হরিনাকুণ্ডু থেকে ফিরে॥ দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে আবারও বড় ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মিরা।এবার তারা বিভিন্ন মামলার কারনে প্রকাশ্যে না এসে চোরাগোপ্তা হামলার প্রস্তুতি নিচেছ বলে সুত্রে জানা যায়। তাদের হামলার শিকার হতে পারেন সাংবাদিক,আ’লীগ নেতাকর্মি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন।এমনই আভাষ পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বস্ত সূত্রে। এসব নাশকতামুলক কর্মকান্ডে এবার তারা চরমপন্থি সন্ত্রাসীদেরও কাজে লাগাতে পারে।
সুত্র জানায়,গত ৩মার্চ হরতালে উপজেলায় জামায়াত-শিবির কর্মিরা পুলিশ কনষ্টেবল গাজী ওমর ফারুক কে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ৬হাজার জামায়াত-শিবির কর্মির নামে মামলা দায়ের করা হয়।ফলে গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেয় তারা।এ মামলার মুল আসামীসহ জামায়াত-শিবিরের প্রায় ২০০/২৫০জন নেতাকর্মি বর্তমানে জেলহাজতে। ফলে রাজনৈতিকভাবে জামায়াত বর্তমানে নিষ্ক্রীয় ও কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও গত ২৮ অক্টোবর ১৮দলীয় জোটের ৬০ঘন্টা হরতালের ২য় দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন উপজেলার দখলপুর বাজারে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হলে বিক্ষুব্ধ বিএনপি ও দীর্ঘদিন পুলিশ হত্যা মামলায় পালিয়ে থাকা জামায়াত শিবির কর্মীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দখলপুর, মহারাজপুর, পারদখলপুর, উপজেলা মোড় ও হরিণাকুণ্ডু বাজারে আ’লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমন চালিয়ে ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও লুটতরাজ করে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশ বাদি হয়ে প্রায় ৭ শ বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করে। ফলে গ্রেফতার এড়াতে আবারও গা ঢাকা দেয় বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীরা।
সূত্র জানায়, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চলতি সপ্তাহে তফসীল ঘোষণা করা হবে কমিশনের এমন আভাসের পর বিএনপি জামায়াতের বিভিন্ন মামলার এজাহারভূক্ত পলাতক নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে গোপনে রাতের আধারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় মিটিং করেছে। তারা এবার এলাকার বিভিন্ন চরমপন্থী সন্ত্রাসীগ্র“পের সহযোগিতা নিতে পারে বলেও জানা গেছে। সূত্র আরো জানায় উপজেলার হাসপাতাল মোড়, আইজুদ্দিন মোড়, টাওয়ার পাড়া, ফলসী, পারফলসী, কুলবাড়িয়া, পার্বতীপুর, শুড়া, ফতেপুর, পোলতাডাঙ্গা, পারদখলপুরও দখলপুর এলাকার আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনীর সমন্বয়ে এসব এলাকার জামায়াত, বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীদের সমন্বয়ে প্রায় ৮/১০টি গ্র“প নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে।
এদিকে ইতিমধ্যে দায়িত্ব প্রাপ্ত এসব নেতাদের নেতৃত্বে গত কাল ভোরে উপজেলার তেল পাম্প এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে । ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার পুলিশ পরিদর্শক মহিবুল ইসলাম বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উপজেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল। জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বা যে কোনো ধরণের নাশকতা মোকাবেলায় যে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার