ভোটে থাকছে সেনাবাহিনী

armi

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সুষ্ঠুভাবে ভোট আয়োজনে ‘বিগত নির্বাচনগুলোর মতো’ এবারো নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, একই দিনে সারা দেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাচন আয়োজন ‘অত্যন্ত দুরূহ’। তাছাড়া ভোটার সংখ্যাও অত্যন্ত ‘বিশাল’।
“তাই প্রতিবারের মতো এবারও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ভিডিপি, আনসার, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনীর সাথে সকলের প্রিয় ও আস্থাভাজন সশস্র বাহিনীকেও নির্বাচনের জন্য দেশব্যাপী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি।”
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে সিইসির এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচার করা হয়।
এই ভাষণের মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের জন্য বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করেন তিনি।
বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকলেও বর্তমান সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকারের কয়েকটি নির্বাচনে ও উপ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হয়নি।
প্রধান বিরোধীদল বিএনপি ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে’ বরাবরই সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ৩০০ আসনের নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর ৫ লাখেরও বেশি সদস্য প্রয়োজন হয়।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনেও সশস্ত্রবাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল।
নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, “দেশের ঋণ পরিশোধ করার জন্য আজ ডাক এসেছে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্ভয়ে আইন মোতাবেক কাজ করুন।”
ভোটারদের উদ্দেশে কাজী রকিব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে নিজেদের পছন্দমতো প্রতিনিধি বেছে নেয়া কেবল ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকারই নয়, এটা তাদের ‘মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য’।
“নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আপনার রায় প্রকাশ করে নিজের অধিকার আদায় করুন, নির্ভয়ে জাতীয় দায়িত্ব পালন করুন।”
ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং ভোট দিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন কাজী রকিব।
সিইসি বলেন, “আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।”
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ২০০১ সালের আগে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত কোনো বিধান আরপিওতে ছিল না। তারপরও ১৯৭৩ থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও জেলা/থানা/উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়।
২০০১ সালের এক অধ্যাদেশে নির্বাচনে ‘ল’ এনফোর্সিং এজেন্সির’ সংজ্ঞায় ‘ডিফেন্স সার্ভিস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্ত ২০০৯ সনের ১৩ নম্বর আইনে তা বাদ দেয়া হয়।
এ কারণে বর্তমান সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ উপ নির্বাচনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সেনাবাহিনী চেয়েও পায়নি ইসি।

শেয়ার