‘ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্যই দশ ট্রাক অস্ত্র’

10trak
বাংলানিউজ ॥
বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার ব্যবহারের জন্যই দশ ট্রাক অস্ত্র আনা হয়েছিল। এই দাবি করেছেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসলি ও মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ।
সোমবার দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, ‘শুধু ২০০৪ সালে নয়, ১৯৯৬ সালেও একইভাবে অস্ত্র এসেছিল। কক্সবাজারে সেই অস্ত্রের চালান খালাস করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় কোন মামলাই হয়নি। এভাবে পর্যায়ক্রমে ভারতের বিরুদ্ধে একাজ করা হয়েছে।’
চট্টগ্রামের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে সোমবার এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়েছে। যুক্তি উপস্থাপনকালে মহানগর পিপি কামাল উদ্দিন আহমেদ মামলার এজাহারের বর্ণনামতে পুরো ঘটনা আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্যও আদালতের কাছে তুলে ধরছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত রেখে আদালত মঙ্গলবার পর্যন্ত এ মামলার কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেছেন।
যুক্তি উপস্থাপনকালে পিপি বলেন, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে এটা খুবই সাদামাটা একটা ঘটনা। কিন্তু বিশ্বের ইতিহাসে এ ঘটনা বিরল। বাংলাদেশের মাটি ও জলসীমা ব্যবহার করে চীন থেকে নরেনকো নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এসব অস্ত্র আনা হয়।
তিনি বলেন, এসব অস্ত্র বাংলাদেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য আনা হয়নি। বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার ব্যবহারের জন্য এসব অস্ত্র আনা হয়। আর তা একটি সার্বভৌম দেশে নির্বাচিত সরকার থাকাকালে পার্শ্ববর্তী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য।
পিপি কামাল বলেন, ভারত শুধু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র নয়, তারা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রও বটে। মিয়ানমারও আমাদের পাশ্বর্র্বতী রাষ্ট্র। কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য আছে। একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রশিক্ষণ এবং এক কোটি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সাহায্য করেছে। কিন্তু অস্ত্র আনার এ কাজে মনে হচ্ছে আমরা জাতি হিসেবে কতো কৃতঘ্ন (যে উপকারীর ক্ষতি করে)। যারা আমাদের উপকার করেছে আমরা তাদের অপকার করেছি। এটা দু:খজনক। জাতি এর দ্রুত বিচার চায়, আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ও চায়।
তিনি বলেন, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ (সংশ্লিষ্টতা) ছাড়া এটা হতে পারে না। তাই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা লুৎফুজ্জামান বাবর ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মতিউর রহমান নিজামীসহ যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরই আসামি করা হয়েছে।

শেয়ার