জামায়াতের ‘সামরিক’ শাখার তিন ক্যাডার যশোরে ॥ সরকারি প্রতিষ্ঠানে রিমোট কন্ট্রোলে বোমা হামলার পরিকল্পনা

bomb
লাবুয়াল হক রিপন ॥
নির্বাচনকালীন সময় সারাদেশে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যশোরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘সামরিক’ শাখার তিন ক্যাডার। তারা জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা হামলার মিশন নিয়ে যশোরে এসেছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি সূত্র। শুক্রবার শহরের চাচঁড়া এলাকায় রিমোট কন্ট্রোল বোমা উদ্ধার হওয়ার পর ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। উদ্ধার হওয়া ওই বোমার সাথে জঙ্গি বা জামায়াতের কানেকশন আছে কি না অথবা এর সাথে কে বা কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা গুলো। র‌্যাব এবং পুলিশও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মহামান্য হাই কোর্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দেন। এর পর থেকে তারা সারা দেশে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা নেয়। আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়কে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জামায়াতে ইসলামীর সামরিক শাখার তিন ক্যাডারকে কেন্দ্র থেকে পাঠানো হয়েছে যশোরে । ওই তিন ক্যাডারের মধ্যে আলমগীর হোসেন নামে একজন যশোরে অপারেশন বাস্তবায়নের সমন্বয়নকারি। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। চলতি মাসের ৭ তারিখে সে যশোরে এসেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। অপর দুই জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। তারা ১১ নভেম্বর যশোরে আসে।
সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামী নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে মূলত বর্তমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করতে। এজন্য জামায়াতে ইসলামী দেশের বর্তমান প্রধান বিরোধীদল বিএনপি যাতে নির্বাচনে না যায় সেই জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে । তাই একাধিকবার সংলাপের ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও বিএনপি তাতে যোগ দিতে পারেনি। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে তারা সারা দেশে নাশকতা করতে চায়।
সূত্র আরো জানায়, অনেকটাই গোপনীয়ভাবে যশোরে কাজ করছেন জামায়াতের সামরিক শাখার এই তিন ক্যাডার। জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ক্ষণে ক্ষণে তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে। দিনের বেলায় তারা শহরে অবস্থান করলেও রাতে চলে যাচ্ছে শহরতলীর বিভিন্ন গ্রামে। শুক্রবার শহর থেকে একটি রিমোট কন্ট্রোল বোমা উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নাড়া দিয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।
শহরের শংকরপুর পশু হাসপাতাল এলাকার শুভ্র মৎস্য হ্যাচারির পাশ থেকে বোমাটি উদ্ধার করেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সোয়েব উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি সেই সময় সংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, উদ্ধার হওয়া বোমাটি শক্তিশালী বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই কথা বলেন ওসি এমদাদুল হক শেখ।গতকাল বোমাটি সেনা সদস্যরা কোতয়ালি থানা থেকে সেনানিবাসে নিয়ে নিস্ক্রিয় করেছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে।
মূলত সেই সময় থেকে জেলা পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এই নাশকতা সৃষ্টিকারিদের অনুসন্ধানে মাঠে নামে।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সমাজের কথাকে জানিয়েছেন, রিমোট কন্ট্রোল বোমাটি উদ্ধার হওয়ার পর থেকে তারা এর পেছনে রয়েছেন। কারা কী উদ্দেশ্যে বোমাটি সেখানে পেতে রাখে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার