জামায়াতকে রুখতে হবে

বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত। জামায়াতকে এখনই রুখতে হবে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও অনেকে এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এ্যাড রয়েস বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, জঙ্গীবাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থেকে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে জামায়াত কানেকশনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জঙ্গীদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় সক্রিয়ভাবে মদদ যোগাচ্ছে তারা। অনেকে মনে করেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গী তৎপরতা অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব। হরতালকালে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা যেভাবে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসাত্মক তাণ্ডব চালিয়েছে তা একাত্তরের সেই বর্বরতার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে এই জামায়াতই ছিল হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের সবচেয়ে বড় সহযোগী। জামায়াতের নেতা ও কর্মীরা একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে তা জাতি কোনদিনই বিস্মৃত হবে না। তাদের কর্মকা-ের জন্য এতটুকু অনুতপ্ত নয়। বরং তারা নতুন উদ্যোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ধ্বংসে উদ্যমী হয়েছে।
সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ গোপন সূত্রে খবর পেয়েছে, জামায়াত-শিবির চক্র আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধাদানের লক্ষ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বোমা, ককটেল ও এসব তৈরির উপাদান বিস্ফোরকের বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধসহ যাবতীয় কর্মসূচীর বাস্তবায়নে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হবে। জামায়াত যে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না তা ইতোপূর্বে তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। পায়ের রগ কেটে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তারা তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। তাদের লক্ষ্য, দেশের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করা ও সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে বানচাল করা। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত হওয়া সত্ত্বেও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এর ফলে দেশেই এক ভয়াবহ অনিশ্চিত অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
জামায়াতের ঘাতকদের হাতে প্রায়শই দেশের প্রগতিশীল নেতা ও কর্মীরা খুন হচ্ছেন। জামায়াত কি একাত্তরের মতো ভয়ঙ্কর ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে? সম্প্রতি সাতক্ষীরার দেবহাটায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশের ধারণা, ঘাতকরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী। ঘাতকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। দেশকে বাঁচাতে হলে এখনই জামায়াতকে রুখতে হবে। জামায়াতের খুনীদের হাত থেকে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করা জরুরী।

শেয়ার