এদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কি, গুলি কর

usuf
বাংলানিউজ ॥
রাজাকারদের মধ্যে একজনকে দেখলাম, যার পরনে ছিল সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, মুখে সামান্য দাড়ি। এই লোকটি রাজাকারদের বলছিলেন, এদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কি, গুলি কর। তখন রাজাকাররা একে একে গুলি করে ওই ৫/৬ জনকে খালে ফেলে দেয়। আমার ভগ্নিপতির ভাই আশরাফুলের কাছ থেকে জানতে পারি, নির্দেশদাতা ওই লোকটির নাম এ কে এম ইউসুফ। তার নির্দেশেই এসব হত্যাকা- ঘটছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দানকালে এসব কথা বলেছেন মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবজাল হোসেন। তিনি ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী।
একাত্তরে খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউসুফের নির্দেশে রাজাকাররা হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন খুলনার বটিয়াঘাটা থানার বিরাট গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৭৪ বছর বয়সী আবজাল।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্য দেন সাক্ষীর শেখ আবজাল হোসেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। মঙ্গলবার এই সাক্ষীকে আসামিপক্ষের জেরার দিন ধার্য করেছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষী পিযুস কান্তি ঘড়াই এবং একাদশ সাক্ষী মুকুল রাণী দাশের জেরা শেষ করেন ইউসুফের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।
জবানবন্দিতে রাষ্ট্রপক্ষের এ সাক্ষী জানান, তিনি ১৯৫৬ সাল থেকে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) চাকরি করতেন। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর ইপিআরের বাঙালি সৈনিকেরা ব্যারাক ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি তখন সিলেটের বড়গ্রাম ক্যাম্পে ছিলেন।
সে সময় মে মাসের দিকে ১৫/১৫ জন সৈনিককে নিয়ে তিনি সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পর ভারি অস্ত্র না থাকায় ভারতে চলে যান।
সেখানে চব্বিশ পরগনার তকিপুর ক্যাম্পে গিয়ে ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম এ জলিলের সঙ্গে দেখা করেন। সেখান থেকে শ্রাবণ/ভাদ্র মাসের দিকে ২০ জন সৈনিক নিয়ে তিনি বটিয়াঘাটা থানা আক্রমণ করে আবার ভারতে ফিরে যান।
সাক্ষী জানান, ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে মেজর জলিল নৌ এবং পদাতিক বাহিনীর ৩০০ জন সৈনিকসহ তাকে বাগেরহাটে পাঠান। তারা রামপালের কালেখাঁর বেড় দীঘির পাড়ে ঘাঁটি স্থাপন করেন। সেখানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের তারা প্রশিক্ষণ দেন। সব মিলিয়ে তারা ৮০০ জনের দলে পরিণত হন।
মুক্তিযোদ্ধা এ সাক্ষী জানান, সে সময় অনেকবার রামপালের রাজাকার রজ্জব আলীর বাহিনীর আক্রমণের শিকার হন তারা।

শেয়ার