পোল্ট্রিখাতে ৮শ’ কোটি টাকার লোকসান

murgi
বাংলানিউজ॥ হরতাল-অবরোধের কারণে পোল্ট্রিখাতে ৮শ’ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। তাই অর্থনীতি বাঁচাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত সংকট সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পোল্ট্রিখাত সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) এর গুলশানস্থ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে এ আহ্বান জানান পোল্ট্রি শিল্প নেতারা।
ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং পোল্ট্রি বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বলেন, অতীতে বার্ড-ফ্লুর পরে পোল্ট্রিখাতে এত বড় বিপর্যয় আর কখনো আসেনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে দ্রুত বর্ধণশীল এ সেক্টরটি লোকসানি খাতে পরিণত হবে।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারি এবং ফিড প্রস্তুতকারকগণ বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
রাজনৈতিক সংকটের অবসান না হলে মোট খামারের প্রায় ৩০শতাংশ বন্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মশিউর।
বিএবি মহাসচিব সাইদুর রহমান বাবু বলেন, রাজনৈতিক সংকটের কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। খামারিকে ৭০-৮০ টাকা দরে মুরগি বিক্রি করতে হয়েছে। যেখানে নূন্যতম উৎপাদন খরচ ১১০-১২০ টাকা। একদিন বয়সী ব্রয়লার বাচ্চার উৎপাদন খরচ ৩৫ টাকা। কিন্তু তা বিক্রি করতে হয়েছে ২০-২৫ টাকায়। লেয়ার বাচ্চা বিক্রি হয়েছে ১৫-২৫ টাকায় এবং কক বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪-৫ টাকায়। প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৬টাকা থেকে সাড়ে ৬টাকা হলেও তা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫টাকা থেকে সাড়ে ৫টাকায়।
তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিকে খামারিরা পথে বসবে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবেন।
বিএবির সহ-সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ অঞ্জন বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে পোল্ট্রি বাচ্চা, মুরগি এবং ফিড সরবরাহকারী গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। মুরগির বাচ্চার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় রাস্তায় আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে একদিন বয়সী বাচ্চা। অন্যদিকে বিক্রি করতে না পেরে এবং ব্রুডিং-এর কোনো ব্যবস্থা করতে না পারায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৪-২০ লাখ বাচ্চাকে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে তিনি পোল্ট্রির বাচ্চা, মুরগি, ডিম ও ফিড বহনকারী গাড়িকে হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

শেয়ার