দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ শেখ হাসিনার ॥ ফের বিএনপি’র এমপিদের নাম চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

pm

বাংলানিউজ ॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোকনা কেন ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।
রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে মনোনয়নপ্রার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রতি এ আহবান জানান।
একইভাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকারে যোগ দেওয়ারও আহবান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসুন, একসাথে নির্বাচন করি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করে গণতান্ত্রিক একটি পথ নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি করে যাই। এমপিদেন নাম দিন। যে যে মন্ত্রণালয় চাইবেন সবকটিই দেওয়া হবে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নির্বাচনে প্রার্থীদের সেগুলো তুলে ধরে প্রচার চালানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করাই তার সরকারের লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ কারচুপিতে বিশ্বাস করে না। ১৯৫৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ জয়ী হচ্ছে এমন আসনেও দলের প্রার্থী হেরে গেছে যখন আমরা ক্ষমতায় বসে আছি তখন। এ থেকে প্রমাণিত হয় আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে জানে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। জনগণের আস্থা অর্জনই একটি রাজনৈতিক দলের ও নেতার লক্ষ্য। আওয়ামী লীগ সে কাজটিই করার চেষ্টা করছে।’
সারা দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার করা হয়েছিলো, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুয়া ভোটারহীন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আওয়ামী লীগ সম্পন্ন করতে চায়।
সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের সময় জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছে, দারিদ্রের হার কমেছে।
সবকদটি মন্ত্রণালয় দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক সাফল্যে দেশে বিশ্ব দরবারে সম্মানের স্থানে উপনীত হয়েছে। জাতিসংঘে বিভিন্ন কমিটিতে বাংলাদেশ জনপ্রিয়তার মধ্য দিয়ে সদস্যপদ পাচ্ছে। কূটনৈতিক সাফল্যই এনে দিয়েছে বিশাল সমুদ্র বিজয়।
কৃষিতে এই সরকারের সাফল্য রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন আর বাংলাদেশকে খাদ্য আমদানি করতে হয় না।

তিনি বলেন, বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলে তখন বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হয়। দুই লক্ষ কোটি টাকার ওপরে বিশাল বাৎসরিক বাজেট আওয়ামী লীগ সরকারই দিতে পেরেছে। ৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কেবল ধান, গম উৎপাদনই নয় বাংলাদেশের কৃষক সারা বছর ধরে সব্জি উৎপাদন করছে। মানুষ বছর ভরেই গাজর, শসা, পাতাকপি খেতে পারছে।
১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রেকর্ড, শহর ও নগরায়নে ব্যাপক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘হাতির ঝিল, কুড়িল ফ্লাইওভার এগুলো দেখলে মনে হবে বিদেশে আছি।’
ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য অর্জন সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ‘বাংলাওয়াশ’ করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরতে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের তিন কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। টেলিফোন সার্ভিস চলে গেছে ঘরে ঘরে, প্রতিটি মানুষের হাতে হাতে। এসব সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরে ভোট চাইলে তারা নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভোট দেবে।
উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ আগামী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেয়। বিপুলসংখ্যক নেতৃবৃন্দ মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এদের নিয়েই শেখ হাসিনা এই মতবিনিময়ে বসেন।

শেয়ার