ইউসুফের নির্দেশে লক্ষাধিক মানুষ হত্যা

usuf

বাংলানিউজ॥ এ কে এম ইউসুফের নির্দেশে তার রাজাকার বাহিনী একাত্তরে খুলনা অঞ্চলে অন্তত লক্ষাধিক মানুষকে হত্যা করেছে।
জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দানকালে এসব কথা বলেছেন বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানা সদরের বাসিন্দা পিযুস কান্তি ঘড়াই। তিনি ইউসুফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষী।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্য দেন পিযুস কান্তি ঘড়াই। তার পরে সাক্ষ্য দেন ১১তম সাক্ষী মোড়েলগঞ্জ সদরের শহীদ শান্তি রঞ্জন দাশের স্ত্রী মুকুল রাণী দাশ। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন প্রসিকউটর জাহিদ ইমাম। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পিযুস কান্তি ঘড়াইকে জেরা করেন সুবহানের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।
মুকুল রাণী দাশকে আংশিক জেরা করেন অপর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম। সোমবার এ সাক্ষীকে অসমাপ্ত জেরার দিন ধার্য করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে সকালে রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষী মো. আব্দুর রউফ মল্লিককে জেরা করেন ইউসুফের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।
বর্তমানে ৬০ বছর বয়সী পিযুস ঘড়াই তার সাক্ষ্যে বলেন, এ কে এম ইউসুফ মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় খুলনার কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা এলাকার ৯৬ জন জামায়াত সমর্থককে নিয়ে তিনি খুলনায় রাজাকার বাহিনী গঠন করেন।
ওই ৯৬ জনকে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ দিয়ে অস্ত্র-সস্ত্র ও পোশাক সরবরাহ করে তাদেরকে মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।
সাক্ষী আরো বলেন, ইউসুফের নির্দেশে তৎকালীন বড়ইখালী ইউনিয়ন পরিষদে রাজাকার ক্যাস্প স্থাপন করা হয়। পরে রাজাকাররা আশেপাশের এলাকার আওয়ামী লীগ সমর্থক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও হিন্দু লোকদের ওপর অত্যাচার চালাতে থাকে। এ সময় রাজাকাররা মানুষের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারীদের ধর্ষণ করেছে।
সাক্ষী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ মে সকালে শুনতে পাই যে, মোড়েলগঞ্জ বাজার থেকে আবু বক্কর নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকাররা ধরে ক্যাম্পে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে আমরা ক্যাম্পের ঝোপের পাশ থেকে লুকিয়ে রাজাকার ক্যাম্পের কাছাকাছি জায়গায় আবু বক্করের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। এরপর আবু বক্করের স্বজনেরা রাজাকার ক্যাম্প থেকে ইউসুফসহ অন্যান্যদের অনুমতি নিয়ে লাশ এনে দাফন করেন।
তিনি আরো বলেন, ১৭ মে ইউসুফের নির্দেশে রাজাকাররা মোড়েলঞ্জে আক্রমণ শুরু করে। এ দিন আমাদের বাড়ি ও দোকান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলীর বাড়ি দোকানসহ তিন থেকে চারশ’ বাড়িঘর লুটপাট করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
পিযুস ঘড়াই বলেন, একাত্তরের ১৯ মে ইউসুফের নির্দেশে মোড়লগঞ্জে রাজাকার ও হানাদার বাহিনী আক্রমণ করে। আমি ওই দিন বাড়িতে ছিলাম। আমাকে তারা ধরে লঞ্চঘাটে নিয়ে যায়। লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখি, গ্রামের শান্তি রঞ্জন দাশ, সত্য রঞ্জন দাশ, কেশব চন্দ্র দাশ, শংকর দাশ ও অমর লাল দাশকে ধরে রাজাকাররা লঞ্চঘাটে নিয়ে এসে নির্যাতন করছে। এরপর তাদেরকে লঞ্চ টার্মিনালে নিয়ে একে একে সবাইকে গুলি করে ফেলে দেয়। এদের মধ্যে অমর লালের হাতে গুলি লাগলেও তিনি নদী সাঁতরিয়ে ওপাড়ে গিয়ে বেঁচে যান। ওই দিন আমি সুযোগ বুঝে পরনের লুঙ্গি ফেলে পালিয়ে যাই।
তিনি বলেন, ইউসুফের নির্দেশে একাত্তরের ২৬ জুলাই মোড়লগঞ্জের ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদকে রাজাকাররা কোমর পানিতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

শেয়ার