৪১ বছরের অধ্যাপনা জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন কপিলমুনি কলেজ অধ্যক্ষ শহর আলী গাজী

এসএম লোকমান হেকিম কপিলমুনি থেকে॥ দীর্ঘ ৩৬ বছর অধ্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ৪১ বছরের অধ্যাপনা জীবন থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন কপিলমুনি কলেজ অধ্য মোঃ শহর আলী গাজী ।
তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক ও যোগ্য প্রশাসক। ১৯৪৮ সালের ৬ নভেম্বর সাতীরা জেলাধীন তালা উপজেলার নিভৃত পল্লী শাহাজাতপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। পিতার নাম মরহুম ফকির আহমেদ গাজী, মাতার নাম মরহুমা মাদারী বেগম। খেশরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী শেষে ১৯৬০ সালে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরে ভর্তি হয়ে মেধাবী ছাত্র হিসেবে বিনা বেতনে অধ্যায়ন করা কালীন ৯ম ও ১০ম শ্রেণীতে বৃত্তি প্রাপ্ত হন ও ১৯৬৫ সালে গণিতে লেটারসহ প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে সাতীরা কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয় বিভাগে আইএসসি, সরকারি বিএল কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয় বিভাগে বিএসসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭১ সালে দ্বিতীয় বিভাগে এমএসসি পাশ করেন। মেধাবী ছাত্র হওয়ায় এসএসসি থেকে এমএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা কালীন ১ম ও ২য় গ্রেডে বৃত্তিলাভ করে বিনা বেতনে পড়াশুনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। শিা জীবন শেষে ১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর কপিলমুনি কলেজে জীব বিজ্ঞানের প্রভাষক পদে তৎকালীন সম্পাদক আলহাজ্ব এরফান আলী মোড়ল কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং ২০/০২/৭৩ তারিখে যোগদান করে ১৯৭৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই থেকে উপাধ্য হিসেবে তৎকালীন সভাপতি এসডিও আনোয়ার আলী খান কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করা কালীন ১৯৭৭ সালের নভেম্বর মাসে ৫ বিঘা জমি, ছোট একটি অফিস ঘরসহ টালি শেডের লম্বা একটি পাঠদান ঘরের অবকাঠামো নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এই কলেজের অধ্য হিসেবে তৎকালীন সভাপতি এসডিও মোঃ হাফেজ আহমেদ কর্তৃক নিয়োগ পান এবং শত প্রতিকুলতার মাঝে ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত একটানা দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযের চাকুরী বিধি অনুযায়ী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরো অতিরিক্ত ২+২+১ = ৫ বছর দায়িত্ব পালন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযের চাকুরী বিধি অনুযায়ী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ৫ নভেম্বর চাকরি থেকে অবসর গ্রহন করেন। সেই উচ্চ মাধ্যমিক কলেজটি অনেক চড়াই উৎরাই পার করে আজ ডিগ্রী ও সম্মান শ্রেণীতে উন্নীত। তাছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রী পর্যায়ে পরীা কেন্দ্র, ৩টি দোতলা ও ১টি তিনতলা একাডেমিক ভবন, লেক, পুকুর, খেলার মাঠ, হোষ্টেলসহ প্রায় ৩০ বিঘা জমি বিদ্যমান। অধ্য হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে মোঃ শহর আলী গাজী নায়েম ও বিয়ামে ১৯৮০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১৪ থেকে ৪২ দিনের বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৭ বার শিা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার উপর সফলতার সাথে প্রশিণ গ্রহন করেন। তিনি ছাত্র হিসেবে যেমন মেধাবী ছিলেন তেমন প্রশাসনিক দাতায় মেধা ও যোগ্যতার স্বার রেখেছেন। তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার েেত্র এবং দীর্ঘ চাকুরী জীবনে যাদের একান্ত সান্নিধ্য ও সহযোগিতা পেয়েছেন তম্মধ্যে মরহুম শেখ আমজাদুর রহমান, মরহুম মুন্সী আশরাফ হোসেন, মরহুম সরদার সেপের উদ্দীন, মরহুম আব্দুল মান্নান মোড়ল, মরহুম সামছুর রহমান হাজরা, মরহুম নুর হোসেন খানঁ, মরহুম সরদার রফিক উদ্দীন, মরহুম সরদার মোমিন উদ্দীন এবং আলহাজ্ব এরফান আলী মোড়লের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এডিসি মোয়াজ্জেম হোসেন, ইউএনও জামাল উদ্দীন, ইউএনও আব্দুর রহমান, ইউএনও মিহির কান্তি মজুমদার, ইউএনও আবদুস সোবহান, ইউএনও ড. মনজুর কাদির, রাজনৈতিক নেতা মরহুম এ্যাড. মোমিন উদ্দীন, এ্যাড. শেখ মোঃ নূরুল হক, এ্যাড. সোহরাব আলী সানা, শিক তিীশ মলিক, যামিনী সরকার, সুশান্ত কুমার, আফসার আলীসহ সকল পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতার সাথে শ্রদ্ধাভারে স্মরণ করেন। কলেজে রুটিন মাফিক দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতাও ছিল অনেক। তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে ও কপিলমুনি এলাকার বহু শিা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সহ-সভাপতি ও শিানুরাগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তা ছাড়া দীর্ঘদিন কপিলমুনি প্রেস কাব, কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) বণিক সমিতি, কপিলমুনি ক্রীড়া শিা প্রতিষ্ঠান (কেকেএসপি), কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ও কপিলমুনি পাবলিক লাইব্রেরীর পরিচ্ালনা পরিষদ গঠনের েেত্র মনোনীত নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি এক কণ্যা সন্তানের জনক। কণ্যা রেবেকা সুলতানা (বিএসসি বিএড) হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক হিসেবে কর্মরত। স্ত্রী রিজিয়া সুলতানা একজন সুগৃহিনী হিসেবে পরিচিত।

শেয়ার