সহিংসতায় শিশুদের ব্যবহার

শিশুরা জাতির ভবিষ্যত। তাই শিশু বয়সে তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হয়। শিশু বয়সে তাদের মনে অঙ্কুরিত করা যায় আদর্শ মানুষ তৈরির বিষয়গুলো। তাই বিশ্বব্যাপী শিশুদের প্রতি বিশেষভাবে যতœ নেয়া হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বাংলাদেশে শিশুদের হিংস্র হওয়ার পথে নামাচ্ছে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে। সম্প্রতি বিরোধী দলের ডাকা হরতালে শিশুদের বোমা ছুড়তে, গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচীতে এভাবে শিশুদের ব্যবহার করায় ইউনিসেফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহের হরতাল কর্মসূচীতে বিরোধী দল সহিংসতায় শিশুদের ব্যবহার করার এই অমানবিক কাজটি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ববাসী। শিশুদের এভাবে সহিংসতায় ব্যবহারে তাদের ভবিষ্যতের পথ অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছে যারা তাতে প্রমাণিত হয় তারা ক্ষমতার লোভে যে কোন অমানবিক কাজ করতে প্রস্তুত। এতে করে প্রশ্ন জাগে তারা দেশ শাসনের যোগ্যতা রাখে কী ? গত ১৯ নবেম্বর ইউনিসেফের প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ এক বিবৃতিতে শিশুদের সহিংসতা মুক্ত পরিবেশে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইউনিসেফ দীর্ঘদিন ধরে সারাবিশ্বের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদান করে থাকে। সংস্থাটি শিশুদের মানবিক দিকটির প্রতিও গুরুত্ব প্রদান করে। তাই ইউনিসেফের উদ্বেগ দেশকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করেছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনকালীন চরম অনিশ্চিত সময়ে শিশুদের আবাস, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও বিদ্যালয়কে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে রাখা দরকার। বাংলাদেশে কয়েকদিনের রাজনৈতিক হরতাল কর্মসূচীতে শিশুদের পিকেটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে এবং অনেকে বোমায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। সবচেয়ে বেদনা ও কষ্টের বিষয় যে, বিরোধী দল শিশুদের টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষের ক্ষতি করতে উৎসাহী করেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেছেন, যে শিশুকে দিয়ে এখন বোমা ছুড়তে উৎসাহী করা হচ্ছে ভবিষ্যতে সে বড় হয়ে সন্ত্রাসীতে পরিণত হবে। বিরোধী দল কি ভাবছে না তাদের হরতাল কর্মসূচিতে শিশুদের ব্যবহার করে তারা তাদের দানবে পরিণত করছে। বিগত দিনগুলোর হরতাল কর্মসূচীতে শিশুদের দিয়ে বোমা ফাটানোর পাশাপাশি গাড়িতে, স্কুটারে অগ্নিসংযোগ করান হয়। অথচ এই শিশুদের ক্ষমতা বদলের রাজনীতির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। তারা জানেও না কার কি রাজনৈতিক আদর্শ। তাই বিরোধী দলের উচিত নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচীতে শিশুদের সহিংসতায় ব্যবহার না করা। শিশুদের স্বাভাবিক জীবনধারা অব্যাহত রাখাসহ ন্যায্য অধিকার ভোগ করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বাধাহীনভাবে মৌলিক-সামাজিক সেবা দিতে হবে। কোমলমতি শিশুরা যেন বোমার পরিবর্তে হাতে বই তুলে নিতে পারে সে জন্যই রাজনৈতিক কর্মসূচী থেকে তাদের বাইরে রাখতে হবে। তাই শিশুদের রাজনৈতিক সহিংসতার বাইরে রেখে তাদের ভবিষ্যতকে নিরাপদ করতে হবে।

শেয়ার