শালিখায় আইনের তোয়াক্কা না করে ইট ভাটাগুলোতে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ

vata
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি॥ আইনের উপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শালিখার ইট ভাটাগুলো দেদারচ্ছে কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অন্য দিকে পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। মানসম্পন্ন চিমনী না থাকায় কাঠ পোড়া কালো ধোঁয়ায় এলাকা ছেয়ে যাচ্ছে। ফলে ভাটার আশপাশে জনবসতিপূর্ন এলাকায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এ সকল ভাটার বিরুদ্ধে কোন রকম আইনের প্রয়োগ না থাকায় ভাটা কর্তৃপ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে ম্যানেজ করে ভাটা মালিকগণ দিনের পর দিন এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজনিয়ে জানা যায়, উপজেলার শতখালী ইউনিয়নে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোল্লা ব্রিকস ও বিশ্বাস ব্রিকস নামে দুইটি ইট ভাটা অবস্থিত। গত ২ বছর আগে বিপুল পরিমান আবাদি জমি ফলজ বাগান নষ্ট করে এই ভাটা নির্মাণ হয়। ভাটা নির্মাণের পর থেকেই শতখালী গ্রামের জাফর মোল্লা, তবিবর মোল্লা, বাদশা মোল্লা, ছবুর মোল্লা, লালমিয়া মোল্লা, মামুন মোল্লা ও খাজুরা লেবুতলার এনামুল বিশ্বাস কর্তৃপকে ম্যানেজ করে ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মন কাঠ পোড়ান হচ্ছে। স্থায়ী চিমনী না থাকায় আশপশের ঘন বসতি এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রন্ত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায় গত বছর এই মোল্লা ভাটায় এক শিশু নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ভাটা মালিকগন বিভিন্ন কৌশলে ধামা চাপা দিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না থাকলেও ভাটাটি কয়েক বছর চালু থাকায় জনমনে প্রশ্নদেখা দিয়েছে আসলে তাদের খুঁটির জোর কোথায়। সরকারি নীতি অনুযায়ী পরিবেশ বান্ধব চিমনী তৈরি করে কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা এবং সেটি হতে হবে কৃষি জমির তি না করে। কিন্তু মোল্লা ব্রিকস ও বিশ্বাস ব্রিকস নামের এই ভাটাটি আইনের কোন শর্ত পূরণ না করেই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছে। উল্লেখ্য গত বছর এই দুটি ভাটায় খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর এক অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘গত বছর পরিবেশ অধিদপ্ত ভাটাগুলোকে জরিমানা ধরেছিল এ বছরও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার