নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া বিএনপির বিকল্প নেই

ershad
বাংলানিউজ ॥
নির্বাচনে যাওয়া ছাড়া বিএনপির বিকল্প পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
শনিবার রাজধানীর বিজয় নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুব সংহতি আয়োজিত জাতীয় পার্টির মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এরশাদ বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে যেতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আপনারা মানুষ পুড়িয়ে মারছেন, শিশু হত্যা করছেন। নির্বাচনে গেলে কীভাবে মুখ দেখাবেন?
সম্প্রতি জাপা সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেওয়ার পর বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাকে কটাক্ষ করার কঠোর সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, আপনারা ছবি পোড়াচ্ছেন, ঝাড়ু মিছিল করছেন। হুমকি দেবেন না। সংঘাতে বিশ্বাস করি না বলে আমাকে দুর্বল মনে করবেন না। আমার লাখো কর্মী রয়েছেন। কাকে ভয় দেখান? কীসের ভয় দেখান? এ সময় নেতাকর্মীদের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান এরশাদ।
নির্বাচন ছাড়া দুর্নীতিবাজ সরকার উৎখাত করার বিকল্প কোনো পথ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাত পছন্দ করি না বলেই নির্বাচন বেছে নিয়েছি।
জাপা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় ১৮ দলের কটাক্ষের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি জনগণের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, আপনাদের সঙ্গে নই। আমি নির্বাচনে গেলে আপনাদের এতো গাত্রদাহ কেন?
বিএনপির দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকিরও কঠোর সমালোচনা করেন জাপা চেয়ারম্যান।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকি দেন কেন? দেশে কি দুর্ভিক্ষ হয়েছে, মহামারি দেখা দিয়েছে?
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি বিশেষ দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য মানুষ কেন আপনাদের হরতাল-অবরোধে সমর্থন দেবে? আমরা এই হরতাল-অবরোধ মানি না।
বিএনপির সহিংসতার সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, নির্বাচনে না গেলে আন্দোলন সহিংসতায় অংশ নিতে হতো। মানুষ মারতে হতো। জাতীয় পার্টি ধ্বংসের রাজনীতি করে না। তাই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচিত সরকার। তাদের উৎখাত করতে হলে নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই। নির্বাচনের বিকল্প রয়েছে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ও মিলিটারি ক্যু। জনগণ এর কোনোটাই পছন্দ করে না।
জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না, তবুও ১৯৯১ ও ৯৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আর নির্বাচনে গিয়েছিলাম বলেই আমার দল এখনও টিকে আছে। সেসময় নির্বাচনে অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি বিলুপ্ত হয়ে যেতো।
সংবর্ধিত মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীদের উদ্দেশ্য করে এরশাদ বলেন, এরা আমাদের কৃতি সন্তান, নির্বাচনকালীন মন্ত্রী। এরা যেন আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি না করে, নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে। জনগণ এটাই রাজনীতিকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।
যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রওশন এরশাদ ছাড়া জাপার সকল মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার