টানা অবরোধের নামে নাশকতার পরিকল্পনা বিএনপি জামায়াতের

jamait
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে টানা অবরোধের নামে নাশকতার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে এনেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। এই টানা অবরোধের মাধ্যমে তারা সারাদেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা চালাচ্ছে। এজন্য আগের যে কোন কর্মসূচির চেয়ে আসন্ন কর্মসূচিতে নাশকতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা, এতো দিন গাড়ি ভাঙচুর-আগুন, রেললাইন উপড়ে ফেলা, যাত্রীবাহী ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, গাছ কেটে সড়ক অবরোধ, ককটেল-পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ, পুলিশ ফাঁড়ি-থানায় আগুন দেওয়ার মতো নাশকতার ঘটনা অনেকবারই ঘটেছে। আসন্ন অবরোধে নাশকতার মাত্রা আরো বাড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে নেতাকর্মীদের ওপর।
এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের বিশ্বস্ত এক নেতার মাধ্যমে সারাদেশের সাংগঠনিক জেলা ও থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের আন্দোলন সফল করার বার্তা দিয়েছেন। এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও নেতকর্মীদের সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর এমন প্রস্তুতির ওপর ভর করেই শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তফসিল ঘোষণা হলে দেশ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র দাবি করছে, বিরোধী দলীয় জোটের এবারের অবরোধ হবে স্মরণাতীত কালের সবচেয়ে কড়া। রাজপথ তো বটেই, রেলপথ, এমনকি এবার জলপথও অবরোধ করা হবে।
ঢাকার সদরঘাট ও বরিশালসহ সারাদেশের লঞ্চঘাটগুলোর পন্টুনে যাতে কোনো লঞ্চ বা জাহাজ ভিড়তে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন গ্রুপকে এরই মধ্যে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
আর অবরোধের মাঠে মারমুখী মুডেই থাকবেন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। ১৮ দলীয় জোটের তরুণ ও যুবনেতারাই এ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকবে বলে আভাস দিচ্ছে দলীয় সূত্র।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, জনমত উপেক্ষা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে জনগণ তা কঠোর হাতে প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, এখন আর এ আন্দোলন কেবল বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

শেয়ার