চাঁদে ধুলোর আকাল

সমাজের কথা ডেস্ক॥ উপগ্রহের মাধ্যমে বা মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে চাঁদকে যতই ধুলি ধুসরিত মনে হোক না কেনো, এর পরিমাণ কিংবা কতটুকু ধুলো জমে তা নিয়ে হয়তো অনেকেই ভেবে দেখেননি। এমনকি ১৯৬৯ সালে নিল আমস্ট্রং যখন চাঁদে পৌঁছান, কখন তার পায়ের নিচে ঠিক কি পরিমাণ ধুলো জমে আছে, তা তিনি ঘুর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি৷
কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে অন্য এক তথ্য। প্রতি হাজার বছরে মাত্র এক মিলিমিটার ধুলো জমে চাঁদে৷ কী হারে চাঁদের গায়ে ধুলো জমছে, সে সম্পর্কে এই প্রথম গবেষণালব্ধ তথ্য প্রকাশ করতে সক্ষম হলেন বিজ্ঞানীরা৷ এত ধীর গতিতে চাঁদে ধুলো জমার তথ্যে বিজ্ঞানীরাও রীতিমতো অবাক৷
জানা যায়, ১৯৬৯ সালে চাঁদে মানুষ যাওয়ার সময় থেকেই নাসা সেখানে ধুলো জমার তথ্য সংগ্রহ করে৷ দুর্ভাগ্যের বিষয় সেটি পরবর্তীকালে হারিয়ে যায়৷ নাসার হারিয়ে যাওয়া নথির সাহায্যেই প্রায় ৪০ বছর পর বিজ্ঞানীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য খুঁজে পেলেন৷ এই তথ্য ‘স্পেস ওয়েদার’ নামে একটি জার্নালেও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে৷
চমকপ্রদ বিষয় হলো, আমরা ঘর ঝাড়ু দেয়ার পরেও যে ধুলো পড়ে থাকে, তার পরিমাণ প্রতি হাজার বছরে ০.০৪ ইঞ্চি৷ কিন্তু চাঁদে তার থেকেও কম হারে ধুলো জমে৷
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্যারি ওব্রায়েন জানিয়েছেন, চাঁদে এতই কম ধুলো জমে যে, তা দেখাই দুষ্কর৷ যদিও এই কম হারে ধুলো জমলেও চন্দ্রাভিযানে আগামীতে ভয়ঙ্কর সমস্যা হতে চলেছে৷ কারণ যখন বিকিরণে সৌরকোষগুলি ক্রমেই শক্ত হয়ে যায়, তখন সেগুলিতে ধুলো থেকে রক্ষা পাওয়ার মতো শক্তি থাকে না৷ শুধু তাই নয়, চাঁদে ধুলো জমায় সৌরকোষের প্যানেলসহ বিভিন্ন্ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি গরম হয়ে যায়৷ সৌরকোষগুলির বিদ্যুতের ভোল্টেজও কমে যায়৷
উল্লেখ্য, অভিযানের সময় সৌরকোষের মাধ্যমেই বিদ্যুত্শক্তি পায় মহাকাযানগুলি৷
ব্যারি ওব্রায়েন ১৯৬০ সালে অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানে ছয় বছরের সময়কালে ছোট সৌরকোষের সঙ্গে একটি ম্যাচ বাক্সের মতো একটি জিনিস জুড়ে দিয়েছিলেন৷ দেখা গিয়েছে, তাতে প্রতি বছর ১০০ মাইক্রোগ্রাম ধুলো জমেছে৷

শেয়ার