ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভর্তি যুদ্ধ অভিভাবকদের ঘুম হারাম

school
এম এ রাজা ॥ বছরের শেষ সময়ে এখন শহরে বিদ্যালয়গুলো ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। সারা দেশের মতো যশোর শহরের শিশু শিক্ষার্থীরা নেমে পড়েছে ভর্তি-যুদ্ধে । শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। প্রিয় সন্তানদের পছন্দের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দিনরাত পড়া লেখায় নিবিষ্ট করে রাখা হচ্ছে তাদের।
শহরের ২টি সরকারি বিদ্যালয়ে ১৭ নভেম্বর থেকে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয় গুলোও ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। কয়েক বছর ধরেই পছন্দের স্কুলে সন্তানদের ভর্তির জন্য রীতিমতো যুদ্ধে নামতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এ জন্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাই চাপে থাকে। এবার সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদনপত্রের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা হবে। প্রথম শেণীতে লটারি এবং নবম শ্রেণীতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করানো হবে। সরকারি স্কুলে প্রাথমিক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজিতে ১৫ নম্বর করে ও গণিতে ২০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির জন্য ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই স্তরে গণিতের জন্য ৪০ নম্বর এবং বাংলা ও ইংরেজি উভয় বিষয়ে ৩০ নম্বর করে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য পাঁচ শতাংশ এবং প্রতিবদ্ধিদের জন্য দুই শতাংশ কোটা থাকবে। এছাড়া রয়েছে ২ শতাংশ পৌষ্য কোটা।
সংক্ষেপে শহরের কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভর্তির তথ্যঃ
সরকারি ২টি বিদ্যালয় ঃ যশোরে ২টি সরকারি বিদ্যালয় জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে (মোমিন গার্লস) ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ১৭ নভেম্বর থেকে ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ফরম বিতরণ ও জমা নেয়া চলবে। উভয় বিদ্যালয়ে এবার ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করা হবে। ৩য় শ্রেণীতে প্রভাতী ও দিবা ২ শিফটে ২০০ জন ভর্তি করা হবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে দিবা শিফটে জিলা স্কুলে ৪০ জন ও বালিকা বিদ্যালয়ে ১০ ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের পরে সিট সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানান জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম। এই দুই স্কুলে প্রভাতী শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায়। পরের দিন একই সময় দিবা শাখার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ড স্কুল এণ্ড কলেজ ঃ যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এণ্ড কলেজে এবছর ৩য় থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি করা হবে। এ জন্য ২৩ নভেম্বর থেকে ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত ফরম বিতরণ চলবে। তবে নবম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরম বিতরণ করা হবে। এই বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায়।
পুলিশ লাইন ঃ পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভর্তি বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু হবে।
মুসলিম একাডেমি ঃ মুসলিম একাডেমি ২০ নভেম্বর থেকে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু করেছে। ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিদ্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ ও জমা দেয়া যাবে। এই বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত ভর্তি করা হবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩০ ডিসেম্বর।
সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন ঃ সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন এবছর ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি করা হবে। এই জন্য ১৭ নভেম্বর থেকে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর সকাল ১০ টা থেকে ২টা পর্যন্ত ফরম বিতরণ ও জমা নেয়া চলবে।
এমএসটিপি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ ঃ এমএসটিপি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে এবছর ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রী ভর্তি করা হবে। ২২ নভেম্বর থেকে এই বিদ্যালয়ে ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় এই বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শহরে প্রত্যেকটি স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে।

শেয়ার