অনলাইন তৎপরতায় এগুচ্ছে আ.লীগ

logo

বাংলানিউজ॥ চলমান সংকটময় রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতের অপতৎপরতার জবাব দেবার পাশাপাশি সরকারের সফলতা তুলে ধরতে সাম্প্রতিককালে অনলাইন মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতা-কর্মীদের প্রচার তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়েছে।
এতদিন আওয়ামী লীগের যেসব অনলাইন ব্যবহারকারী ঝিমিয়ে পড়েছিলেন তাদের অনেকেই এখন রীতিমতো গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন! তারা বিরোধীদলের অপতৎপরতার মোক্ষম জবাব দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমগুলোর সহায়তায় মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। যুক্তিসহ সরকারের সফলতার ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।
বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ছাড়াও অন্যসব গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনগুলোতে তারা নিজেদের যুক্তি ও মতামত তুলে ধরছেন।
অবশ্য অনলাইন বিপ্লবের শুরু থেকেই অনলাইন-তৎপরতার শীর্ষে ছিলো ইসলামী ছাত্রশিবির। শিবির সারা দেশে নৈরাজ্যকর সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অনলাইনকে ব্যবহার করেছে এবং এখনো করছে। তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি জনমনে আতংক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটু দেরিতে হলেও জামায়াত-শিবির ও বিএনপির অনলাইন-অপতৎপরতার ভালোই জবাব দিতে শুরু করে আওয়ামী সমর্থিতরা। অনলাইনে তাদের সক্রিয়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং জোরালো।
আর তাই রাতারাতি তাদের এই অনলাইন সক্রিয়তা সবার নজর কেড়েছে।
কয়েকমাস আগেও চিত্রটা ছিল ভিন্ন। তখন অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে আওয়ামী লীগ সর্ম্পকিত নিউজগুলোর ফেসবুক শেয়ার ছিলো অনেক কম। অথচ একই সময় জামায়াত-শিবির কিংবা বিএনপি সম্পর্কিত নিউজগুলোর ফেসবুক শেয়ার ছিলো আওয়ামী লীগের নিউজের চেয়ে ঢের ঢের বেশি—কখনো কখনো তা ৪০ থেকে ৫০ গুণ বেশি।
চিত্রটা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। এই সময়ে এসে ফেসবুক শেয়ার প্রায় সমান সমান। অনলাইনে আওয়ামী লীগ সমর্থক পাঠকদের ব্যাপক সক্রিয়তার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রগতিশীল ওয়েবসাইটগুলোরও কার্যক্রম কয়েকগুণ বেড়েছে এখন।
পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে র‌্যাকিং ১ এ থাকা অনলাইন গণমাধ্যম বাংলানিউজে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওপর করা জনপ্রিয় নিউজআইটেমগুলোর গড়পড়তা ফেসবুক শেয়ার ৩ হাজার। কোনো কোনো নিউজের ক্ষেত্রে শেয়ার ৭ হাজারের বেশি।এমনটি আগে দেখা যেতো না।
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের ওপর করা জনপ্রিয় নিউজ আইটেমগুলোর গড়পড়তা ফেসবুক শেয়ার সজীব ওয়াজেদ জয়ের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে।
এ চিত্র শুধু বাংলানিউজে নয়। বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, জামায়াত-শিবির সর্ম্পকিত নিউজগুলোরও ফেসবুক শেয়ার আগের চেয়ে অনেকখানি কমেছে। বিপরীতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও প্রগতিশীলদের নিয়ে নিউজ আইটেমগুলোর গড়পড়তা ফেসবুক শেয়ার।
অন্যসব সামাজিক মাধ্যমের পর এবার অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে যে কোনো নিউজের পক্ষে-বিপক্ষে মার্জিত ভাষায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের বাইরে কয়েকমাস আগেও নিউজের নিচে নিজেদের মন্তব্য লিখে প্রতিক্রিয়া প্রকাশে জামায়াত-শিবির সমর্থকদের অংশগ্রহণ ছিলো অনেক বেশি। এখন সংখ্যাটা প্রায় সমান। অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী সমর্থকদের অংশগ্রহণই ঢের বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রেও জামায়াত-শিবির সমথৃকদের চেয়ে আওয়ামী লীগের তৎপরতা বৃদ্ধির হার কয়েকগুণ বেশি।প্রতি মুহূর্তে আপডেট করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফ্যান পেইজগুলো। আওয়ামী লীগের সাইটগুলোর মধ্যে Bangladesh Awami League (https://www.facebook.com/awamileague.1949),(https://www.facebook.com/votefornouka), albd.org(https://www.facebook.com/awamileague), Youtube Channel: albd.org উল্লেখযোগ্য।

শেয়ার