যশোরের শার্শায় বেড়েছে গাছিদের ব্যস্ততা জনপদের ঘরে ঘরে সুমধুর রসের ঘ্রান

tree
বিএম রুহুল কুদ্দুস শাকিল, সাড়াতলা (শার্শা) থেকে॥ “ঠিলে ধুয়ে দে বউ গাছ কাটতি যাব” আবহমান গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় এ আঞ্চলিক গানের কথায় গাছির ব্যস্ততা এখন বাস্তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যশোরের শার্শার গাছিদের মধ্যে। যশোরের যশ খেজুরের রস শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তবেও রয়েছে এর সুনাম। শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। বিগত বছরের ন্যায় এবারও শার্শা অঞ্চলের গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস আহরনের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে। অধিকাংশ গাছি শীত আসার আগে ভাগে খেজুর গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা থেকে শুরু করে শেষ পর্যায়ে চাছ দিয়ে নলি, গুজা লাগানোর তিন স্তর পেরিয়ে এখন পুরোদমে গাছ থেকে রস আহরণ করছেন। সব মিলিয়ে গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষের সুমধুর রসের ঘ্রান এখন এ জনপদের গাছিদের ঘরে ঘরে মাতিয়ে তুলতে শুরু করেছে। আর কিছু দিন পর প্রতিটি ঘরে ঘরে খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি, দিয়ে পিঠা, পায়েস, নাড়–, মুড়ি-মুড়কি ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম পড়বে। রসে ভেজা কাচি পোড়া পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা। নলেন গুড়, ঝোলা গুড় ও দানা গুড়ের সুমিষ্ট গন্ধেই যেন অর্ধেক পেট ভরে যায়। সকালে রৌদ্রে বসে কাঁচা রস খাবার স্বাদই অন্যরকম। যশোরের নলেনগুড়, পাটালির রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস, প্রাচীনকাল থেকেই এ আঞ্চলের গুড় পাটালি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সাথে রপ্তানি করাসহ রস থেকে চিনি উৎপাদন করা হতো। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক যুগ ধরে তা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে আধুনিক সময়ে প্রাকৃতিক নিয়মে মাঠে গড়ে উঠা খেজুর গাছ নির্বিচারে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দিন দিন খেজুর গাছের বাগান এভাবে ধ্বংস হওয়ায় বহুলাংশে কমে গেছে এ অঞ্চলের গুড় পাটালির উৎপাদন। এখন সঠিক নলেন গুড়, পাটালি পাওয়া দুষ্কর। যা পাওয়া যায় তাও আবার ভেজালে ভরপুর। ইত্যিমধ্যে যা তৈরি হচ্ছে তা রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গাছিরা গাছ পরিষ্কার বা তোলা চাছা করার জন্য গাছি দা, দড়ি তৈরিসহ ভাড় (মাটির ঠিলে) ক্রয় ও রস জ্বালানো (বান) স্থান ঠিক করাসহ বিভিন্ন কাজে রয়েছে মহাব্যস্ত। তবে গাছিরা জানান, এ মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় গাছ কাটা, রস জ্বালানো ও গুড় পাটালি তৈরির উপকরণের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গুড়-পাটালির দাম বেশি হবে। অভিজ্ঞ মহলের অভিমত যশোর অঞ্চলের খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রাচীন গৌরব আর ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের বন বিভাগকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

শেয়ার