দিল্লীতে বানরদের পরিবার পরিকল্পনা

monky

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারত সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যতই জোরেসোরে ‘হাম দো হামারে দো’ আহ্বান প্রচার করুক না কেনো মানুষ খানিকটা সাড়া দিলেও বানরেরা তা মানছে না মোটেও। তাই তাদেরও জোর করে পরিবার পরিকল্পনায় বাধ্য করা হচ্ছে। দিল্লীতে থাকা বানরদের লাগামহীন বংশবৃদ্ধি রোধে তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে দেশটির জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

ক্যালিফর্নিয়ার ন্যাশনাল প্রাইমেট সেন্টারের বিজ্ঞানীদের সহায়তায় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের রূপরেখা চূরান্ত হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট এবং স্ত্রী ও পুরুষ বানরদের পৃথক নির্বীজকরণ পদ্ধতির সাহায্যে বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা করেছেন তারা।

জানা যায়, দিল্লী জুড়ে তাণ্ডব চালানো বানরেরা মূলত রেসাস ম্যাকাক (ম্যাকাকা মুলাট্টা) প্রজাতির। ২০০২ সালে একই প্রজাতির বানরদের একই নিয়মে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছিল হংকং। তবে দেহরাদুনের ইন্ডিয়ান ওয়াইল্ডলাইফ ইনিস্টিটিউটের অধ্যাপক পি সি ত্যাগি বলেন, তাড়াহুড়ো করে এ বিষয়ে কিছু করা ঠিক হবে না। গর্ভনিরোধক বা ভ্যাসিকটমির দ্বারা বানরদের কোনো ক্ষতি হবে না নিশ্চিত করার পরেই এ বিষয়ে এগোনো উচিৎ। এ ক্ষেত্রে মাত্রা ঠিক রেখে ট্যাবলেট খাওয়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই বানরের উপদ্রপ বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হাড়ে। এরা ঘরে ঢুকে খাবার লুট, ছাদে মেলে রাখা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, গাছ উপরে ফেলা এবং মানুষকে কামড়ে আঁচড়ে রক্তাক্ত করছে প্রায় প্রতিদিনই। এ নিয়ে ভারত সরকারের কাছে অনেক অভিযোগও জমা হয়েছে। এমনকি কয়েক বছর আগে বানরের আক্রমণে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মারা যান দিল্লী পৌরসভার ডেপুটি মেয়র এস এস বাজওয়া।

শেয়ার