নির্বাচনী মহাযজ্ঞে প্রস্তুত ইসি!

Nirbachon

বাংলানিউজ ॥
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার একটি মহাযজ্ঞেই পরিণত হচ্ছে। এ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলেও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকছে না। ইসির ভাষ্যমতে নির্বাচনী মহাযজ্ঞের জন্য প্রস্তুত তারা। এখন কেবল প্রয়োজন সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য উৎসব মুখর নির্বাচন।
আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল। জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে ভোট। নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় সেনা বাহিনী চেয়েছে ইসি।
এরইমধ্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ইসি।
এছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠির মাধ্যমে নির্বাচনী প্যানেল তৈরি করে ২৫ নভেম্বরের মধ্যে ইসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠির মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে সকল পরীক্ষা। একই সঙ্গে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নলকূপ ও শৌচাগার মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তা আবার পুন:পরীক্ষার জন্য ইসিতে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। সংশোধিত আচরণ বিধিতে সরকার ‘নির্বাচন পূর্ববর্তী’ সময়ের জায়গায় ‘নির্বাচন কালীন’ সময় পুন:স্থাপন করেছে।
ইসি নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নীতিমালাও চূড়ান্ত করেছে। এবারে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য তফসিল ঘোষণার ৩ দিনের মধ্যে ইসির সচিব বরাবর আবেদন করতে হবে। আগে ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করার নিয়ম ছিল।
ইসি ধারণা করছে, এবারের নির্বাচনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক থাকবে ১ লাখ, বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবে ৩ হাজার। এছাড়া নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত থাকবে কমপক্ষে ৬০ হাজার স্থানীয় সাংবাদিক এবং ২ হাজার বিদেশি সাংবাদিক। এদের সঙ্গে যুক্ত হবেন কমপক্ষে এক হাজার দোভাষী।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, পর্যবেক্ষকদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের বয়স ধরা হয়েছে কমপক্ষে ২৫ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ হয়েছে কমপক্ষে এসএসসি বা সমমান পাস। পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। এছাড়া নির্বাচনের ভোটগ্রহণের এক মাসের মধ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ইসির কাছে জমা দিতে হবে।
পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য কার্ড এবং গাড়ির স্টিকার তৈরির কাজ শুরু করেছে ইসি। এরমধ্যে পর্যবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে ২০ হাজার গাড়ি। অন্যদিকে সাংবাদিকদের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা হতে পারে ৫০ হাজারের মতো। এছাড়াও নির্বাচনী কর্মকর্তা, প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা হতে পারে ৫০ হাজার। তবে সব ক্ষেত্রেই এর পরিমান ১০ ভাগ কম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।
এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার ভোট কেন্দ্র স্থাপিত হতে পারে বলে ধারণা করছে ইসি। এইসব কেন্দ্রে ভোট কক্ষের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৮৯ হাজার। প্রতিটি ভোট কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন কমপক্ষে তিনজন নির্বাচনী কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে দশম জতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সসস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাড়াই প্রায় ৬ লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেবেন।
এবারের নির্বাচনে ইসির বাজেট থেকে ৫০০ কোটি টাকা চেয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে ২২ কোটি টাকা নির্বাচনী খরচ ও ২৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীর পারিশ্রমিক হিসেবে।
এদিকে দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রতি প্রার্থীদের ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার ইসি সচিবালয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী (৪৪বি, দফা ৩) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
উপ সচিব (নির্বাচন পরিচালনা) মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এবার প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় ২৫ লাখ টাকা উন্নীত করার পরিপ্রেক্ষিতে আরপিও’র বিধান অনুযায়ী ভোটার ব্যয় সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নবম সংসদে এ ব্যয় ৫ টাকা ছিল। ওই নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয়সীমা ছিল ১৫ লাখ টাকা।
প্রার্থীর ব্যয়, জামানত, অনুদান ও মামলা ফি’র পরিমাণ বাড়িয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে-এর সর্বশেষ সংশোধনী আনা হয় সংসদের চলতি অধিবেশনে। ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজারেরও বেশি ভোটারের দশম সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে ঢাকা-১৯ আসনে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৭ জন। সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৪ জন।
নবম সংসদের চেয়ে এবার ১ কোটি ৯ লাখের বেশি ভোটার থাকায় প্রয়োজনীয় সবকিছুই অপেক্ষাকৃত বেশি করে সরবরাহ করে রাখছে ইসি। দশম সংসদে ৩০০ আসনে ভোটার তালিকাভুক্ত ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, মার্কিং সিল, অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্প প্যাডসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ম্যানুয়াল, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র, প্রিজাইডিং-পোলিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যালট পেপার মুদ্রণ করতে হবে। ভোটের অন্যতম উপকরণ নির্বাচনী আইন সংস্কার, ছবিসহ ভোটার তালিকা ও সংসদীয় এলাকার সীমানা পুননির্ধারণ কাজ শেষ হয়েছে।
এরইমধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ শেষ করেছে ইসি। ভোটকক্ষ অনুপাতে সিল, স্ট্যাম্প প্যাড, কালি, নতুন ৪০ হাজার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ মোট ৩ লাখ ৫হাজার বাক্স জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে।
এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি হয়ে গেছে, ভোটকেন্দ্রে তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। এবারে লাল গালা-১৭ হাজার ৩০০ প্যাকেট (৩ হাজার ৪৬০ কেজি), অফিসিয়াল সিল- ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০, মার্কিং সিল (সংসদ নির্বাচন) ২ লাখ ৩১ হাজার ও ব্রাশ সিল ১৮ হাজার নির্বাচনে ব্যবহার হবে।
ইসির তথ্যমতে, নতুন স্বচ্ছ ব্যালট বক্স ও লক আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারাদেশে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার