নির্বাচনকালীন মন্ত্রিদের দফতর বণ্টন ॥ বাদ পড়লেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

montry

বাংলানিউজ ॥
নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিদের দফতর বণ্টনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী, ২১ মন্ত্রী ও ৭ প্রতিমন্ত্রীর নাম ও দফতর উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া নতুন বা পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভায় বাদ পড়েছেন আগের ১৬ মন্ত্রী ও ১৪ প্রতিমন্ত্রী। তাদের পদত্যাগপত্র বিধি মোতাবেক গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ২ মন্ত্রীকে নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর ক্ষমতাবলে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করেন।

মন্ত্রী ও তাদের দফতর
নতুন নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন মোতাবেক মন্ত্রী হিসেবে এয়ারভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার আগের মতোই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের, বেগম মতিয়া চৌধুরী কৃষিসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, তোফায়েল আহমেদ শিল্পসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের, আমির হোসেন আমু ভূমিসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের, আবুল মাল আব্দুল মুহিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের, হাসানুল হক ইনু তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, ওবায়দুল কাদের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের, ড. হাছান মাহমুদ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের, রওশন এরশাদ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের, রাশেদ খান মেনন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের, নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, আবুল হাসান মাহমুদ আলী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের, শাজাহান খান নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের, জিএম কাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের, মুজিবুল হক রেলপথ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এবং রমেশ চন্দ্র সেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অ্যাডভোকেট মো: কামরুল ইসলাম আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের, অ্যাডভোকেট শামসুল হক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, মুজিবুল হক (চুন্নু) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের, সালমা ইসলাম মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, প্রমোদ মানকিন সমাজকল্যাণ, বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান শ্রম ও কর্মসংস্থান, দীপঙ্কর তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

এছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াকে।

বাদ পড়েছেন যারা
মন্ত্রী: ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, এডভোকেট সাহারা খাতুন, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মো. রেজাউল করিম হীরা, আবুল কালাম আজাদ, এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, দিলীপ বড়ুয়া, মুহাম্মদ ফারুক খান, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. মো. আফসারুল আমিন, ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক, ডা. দীপু মনি, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ।

প্রতিমন্ত্রী: অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, ক্যাপ্টেন এবিএম তাজুল ইসলাম (অব:), স্থপতি ইয়াসেফ ওসমান, আহাদ আলী সরকার, অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ এনামুল হক, মজিবুর রহমান ফকির, ওমর ফারুক চৌধুরী, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আব্দুল হাই, মেহের আফরোজ চুমকি।

তবে এর মধ্যে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও দিলীপ বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টনের গেজেট বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে বলে এর আগে বুধবার জাতীয় সংসদকে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অন্তর্র্বতী এই সরকার মৌলিক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনকালীন দসর্বদলীয়দ সরকার গঠনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর গত সোমবার দনির্বাচনকালীনদ মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নতুন ছয়জন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।

শেয়ার