কেশবপুরে ২৬ বিলের বদ্ধ পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত॥ আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর॥¬ কেশবপুরের ২৬ বিলের বদ্ধপানি নিষ্কাশনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডায়েরখাল আট ব্যান্ড স্লুইস গেট দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তারা সরকারি খালে মাছ চাষ করায় সুষ্টুভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অধিকাংশ বিল পানিবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কৃষকরা আসন্ন ইরি বোরো ধান আবাদ করা নিয়ে পড়েছে দুশ্চিন্তায়। সম্প্রতি সরকারি খাল দখল করে দেয়া পাটা জাল ও গেটের কপাট তোলার জন্য কৃষকরা চেষ্টা করতে গেলে তাদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ১০ কৃষক আহত হন। দীর্ঘদিন পার হলেও প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত কৃষকরা।
এলাকাবাসী জানান, ২৬ বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য বিল সমুহের ভিতরকার সরকারি খালে জাল ,পাটা দিয়ে মাছ শিকার করায় বিলের পাশ্ববর্তী প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এ দুরাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং আসন্ন ইরি বোরো আবাদ করার জন্য কৃষকরা সিদ্ধান্ত নেন বিল খুকশিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডায়েরখাল স্লুইস গেটের কপাট তুলে দেয়ার। সে মোতাবেক ১১ নভেম্বর সকালে বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, পাথরঘাটাসহ আশপাশের গ্রামের কৃষকরা গেটের কপাট তুলতে গেলে সুফলাকাটি ইউনিয়নের মেম্বর গফফার গাজী ও মিন্টু গাজীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় কৃষক বৈদ্যনাথ সরকার, জামাত আলী, কামরুল ইসলাম, কামরুল হোসেন, আব্দুল হামিদ, রশিদুল ইসলাম , মহসিন, হাবিবুর রহমানসহ ১০ জন আহত হন। আহতরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুফলাকাটি ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল গফফার গাজীর নেতৃত্বে ৮ ব্যান্ড স্লুইস গেটের মুখসহ ২৬ বিলের ডায়ের খাল দখল করে মাছের ঘের করে আসছে । এ ছাড়া সরকারি খালে যারা পাটা দিয়ে বা জাল দিয়ে মাছ শিকার করে থাকে তাদের নিকট থেকে গফফার গাজী ও তার সাগরেদরা চাঁদা আদায় করে আসছে। যার কারনে ঐ ২৬ বিলের বদ্ধ পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। যে কারনে বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, কালীচরণপুর, রোজিপুর , ভবানিপুরসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে হামলার ঘটনায় আহতরা থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারিদের গ্রেফতারসহ অবিলম্বে স্লুইস গেটের মুখসহ খালের ভিতরের জাল পাটা উদ্ধার করে ধান আবাদের পরিবেশ তৈরি করার দাবিতে কৃষকরা সমাবেশ করেন। পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর দুর্গা শঙ্কর সরকার, সাবেক মেম্বর জহুরুল হক ও বিল কমিটির অন্যতম নেতা দীন মোহাম্মদ খিরু জানান, এ মাসের মধ্যে পানি নিষ্কাশনে কোন ব্যবস্থা নেয়া না হলে কৃষকরা ধানের আবাদ করতে পারবে না। এ ছাড়া বিলের ভিতরে যে সকল মাছের ঘের রয়েছে সে ঘেরের পানি নিষ্কাশন হবে না যে কারণে ধান আবাদ করা নিয়ে এলাকার কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। অভিযুক্ত মেম্বর গফফার গাজীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। হামলার ঘটনায় কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি নিরসনের জন্য শুক্রবার নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে দু পক্ষকে নিয়ে বৈঠক রয়েছে। আশাকরি মিমাংসা হয়ে যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মনজুর আলম জানান, পানি নিষ্কাশনে সরকারি খাল অবৈধ দখল মুক্ত করতে পাঁজিয়া ও সুফলাকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা মাইকিং করেছেন। এরপরও পাটা বা জাল অপসারণ হয়নি। দু এক দিনের ভিতর খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ দিকে কৃষকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এখনও এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার