শচীন টেন্ডুলকর

১৬ নবেম্বর মুম্বাই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম দেখেছে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের রাজকীয় বিদায়। শচীন টেন্ডুলকর ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাস তথা বিশ্ব ক্রিকেটে এমন এক খেলোয়াড় যিনি ২৪ বছর ধরে রানের এমন অন্বেষায় ছিলেন যা তাঁকে বসিয়েছে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটের আসনে। সর্বোচ্চ ২০০ টেস্ট খেলা একমাত্র খেলোয়াড়। সবচেয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে দু’টিতেই আছে তাঁর সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি। ২০০ টেস্টে রান করেছেন ১৫৯২১ ও ৪৬৪ ওয়ানডেতে রান করেছেন ১৮৪২৬। ক্রিকেটের বাইশ গজের পিচে রানের অন্বেষায় কতবার যে দৌড় দিয়েছেন। কত বল কখনও বা মাটি কামড়ে বা উড়িয়ে দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে ৪ আর ৬ মেরেছেন। এভাবেই অকান্ত সাধনায় দীর্ঘ ২৪ বছর তিনি ব্যাট হাতে শাসন করেছেন ক্রিকেটবিশ্ব। তাঁর ধারাবাহিক ব্যাটের জাদুতে ভারত একটা জয়ের ধারায় ফিরেছে। আর তিনি হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি । ক্রিকেটের মহানায়ক। ক্রিকেট দেবতা। সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারে। ক্রিকেট কীর্তির মহিমার এমন এক চূড়ায় তিনি উঠেছেন যা হয়ত কখনও অতিক্রম করা যাবে না। ২৪ বছরের ক্রিকেটজীবনে একজন সফল খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর কোন ছেদ পড়েনি। ক্রিকেটে তাঁর যত কৃতিত্ব তা শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় মোড়ানো একটি মাইলফলক। আর অয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে তাই হাজার হাজার দর্শক শচীন শচীন করে চিৎকার দিয়ে উঠেছিল। সেই চিৎকার স্পন্দন জাগায় গোটাবিশ্বে। শচীনের অর্জন যেন গোটাবিশ্বের কাছে অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।
ক্রিকেট রাজকীয় খেলা। ব্রিটিশরা এই খেলার উদ্ভাবক। তারপরও এই উপমহাদেশে ক্রিকেট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, এটি যেন এক কূটনৈতিক শক্তি। এই খেলার মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ অবশ্য ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পরে ক্রিকেট খেলা শুরু করলেও এখন চলে এসেছে তাদের সমপর্যায়ে। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান কয়েকবার বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশেই শচীন করেছিলেন তাঁর শেষ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এট্ইা ছিল তাঁর জীবনের শেষ সেঞ্চুরি এবং টেস্ট ও ওয়ানডে মিলে শততম সেঞ্চুরি। ক্রিকেট খেলা এতটাই ফাস্ট হয়ে পড়েছিল যে বাধ্য হয়ে খেলার সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করা হয়। থার্ড আম্পায়ারের মাধ্যমে প্রথম আউট হওয়া খেলোয়াড় হচ্ছেন এই টেন্ডুলকার। বিশ্ব ক্রিকেটে আরও যাঁদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয় তাঁদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ব্রাডম্যান, ভারতের গাভাস্কার, ওয়েস্ট্ ইন্ডিজের সোবার্স, ভিভ রিচার্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারাকে সব সময় এগিয়ে রাখা হতো টেন্ডুলকরের থেকে। ব্রায়ান লারা এক ইনিংসে ৪০০ রান করেছেন। টেস্টে দশ হাজার রান করার পর বিদায় নিয়েছেন খেলা থেকে। ওয়াংখেড়ে বিদায়বেলায় সাী হতে এসে লারা বলেছেন ‘বক্সিংয়ে যেমন মোহাম্মদ আলী, বাস্কেটবলে মাইকেল জর্ডান আর ক্রিকেটে তেমনি শচীন টেন্ডুলকর। আসলেই তিনি সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, ক্রিকেট দেবতা। শচীন বিদায়বেলায় অনেকের কথা স্মরণ করেছেন। বলেছেন পিতার কথা, বলেছেন বড় ভাইয়ের কাথা। তাঁর জীবনের প্রথম ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন বড়বোন যা দিয়ে তিনি খেলা শুরু করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভারতীয় নির্বাচকরা তাঁর প্রতি আস্থা আনে এবং জাতীয় দলে খেলার সুযোগ দেয়। করাচীতে প্রথম টেস্ট খেলার সময় একটি বলে নাকে আঘাত লাগে; তারপরও আহত শচীন প্রথম টেস্টে খেলেছিলেন অসাধারণ এক ইনিংস। এর পর শচীন আর পিছন ফিরে তাকাননি। দেশে-বিদেশে খেলেছেন নিরন্তর। ভারতের সব ক’টি বেসামরিক পুরস্কারই পেয়েছেন শচীন। বিদায় ণটি আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে ‘ভারতরতœ‘ পুরস্কার পেয়ে। ক্রীড়ােেত্র ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘খেলরতœ’ও পেয়েছেন অনেক আগে। ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রথম বেসামারিক পুরস্কার ভারতরতœ পুরস্কার লাভ করলেন শচীন। এই পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেন মাকে। শচীনের মহত্ত্ব এখানেই তিনি মাকে শ্রদ্ধা জনালেন এভাবেই। শচীনের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক ভালবাসা। শচীন টেন্ডুলকার কখনও শর্টকাট রাস্তা বেছে নেননি। সাধনা, একাগ্রতা তাঁকে ক্রিকেটর কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। শচীন তার দেশকে ভালবেসে দেশের জন্য খেলেছেন। শচীন এর স্থান সবার হৃদয় মাঝে।

শেয়ার