মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের সীমানা দখল করে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা॥ ৯টি গাছ গোপনে বিক্রি

SAMSUNG CAMERA PICTURES
মাগুরা প্রতিনিধি॥ পরিষদের কোন মিটিং নেই, নেই কোন রেজুলেশন। এমনকি কোন সিদ্ধান্তও হয়নি। অথচ উপজেলা পরিষদের প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট এলাকা দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় ওই সীমানার মধ্যে থাকা ৯টি মূল্যবান গাছও গোপনে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। মার্কেটের ঘর বরাদ্দের নামে অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। মহম্মদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ এলাকার অনেকেই অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ঠিকাদারদের মাধ্যমে বর্তমানে উপজেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু প্রাচীর নির্মাণের শুরুতেই উপজেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং জন প্রতিনিধি ব্যক্তিস্বার্থে উপজেলা পরিষদের প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট জায়গা খালি রেখে সীমানা প্রাচীর তৈরি করে নিয়েছেন। এতে করে উপজেলা পরিষদের ওই মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি বেহাত হতে চলেছে।
মহম্মদপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোকবুল হোসেন বলেন, সম্পত্তি সরকারের। প্রভাবশালী সকল প্রকার নিমম নীতি উপেক্ষা করে ওই জায়গার দখল নিয়ে সেখানকার গাছগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। গত ৪ দিন ধরে দিনের বেলা গাছগুলো কাটা হচ্ছে। কিন্তু এই কাজে কেউ তাকে বাধা দেবার সাহস পায়নি। শুধু তাই নয় সরকারি ওই সম্পত্তির উপর তিনি মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। বাজার এলাকার অন্তত ১০ জনের সঙ্গে মার্কেটের কক্ষ বরাদ্দের চুক্তিও করেছেন বলে খবর রয়েছে।
সরজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী সায়েম শিকদার লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে ভ্যানযোগে সরিয়ে নিচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিকাংশই মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে সেখানে উপস্থিত কাঠ ব্যবসায়ী সায়েম শিকদারের কাছে জানতে চাইলে ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান তাদের গাছ কাটার জন্য নিয়োগ করেছেন বলে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, এটি তার একক কোন সিদ্ধান্ত নয়। পরিষদের যথাযথ রেজুলেশনের মাধ্যমে মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেখানে ১০টি দোকান ঘর করা গেলে যে আয় হবে তা সরকারের ঘরেই জমা হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
কিন্তু মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী এবং অপর ভাইস চেয়ারম্যান স্বপ্না রাণী সাহার সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্যের কোন সত্যতা মেলেনি।
ভাইস চেয়ারম্যান স্বপনা রাণী সাহা বলেন, মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হবে। অথচ এ বিষয়ে কোন আলোচনা হবে না। রেজুলেশন হবে না। কেউ জানবে না। রেজুলেশন বা টেন্ডার ছাড়া গাছ কাটা ও মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি হাস্যকর।
উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, উপজেলা পরিষদের স্বার্থে মার্কেট নির্মাণের চিন্তা ভাবনা চলছে। কিন্তু গাছ কাটার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কেউ কেটে থাকলে সেটি তার একক সিদ্ধান্ত।
ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী যে খাত থেকে সরকারের আয় বাড়বে তার সম্পর্কেই কোন ধারণা নেই স্বয়ং মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজার। তিনি বলেন, কোন সিদ্ধান্ত ছাড়া গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি লোক পাঠিয়ে নিষেধ করেছেন। কিন্তু তারপরও তারা গাছ কাটা অব্যাহত রেখেছেন। এটি আইন পরিপন্থী। ইতোমধ্যে গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে। আগামি সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শেয়ার