ছাত্রলীগ কর্মী আলভি হত্যা মামলার চার্জশিট পূর্নতদন্তের ফলাফল শুন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ছাত্রলীগ কর্মী তানজিম আল শাকিক আলভি হত্যা মামলায় পুনতদন্তের চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে ৭জনকে অভিযুক্ত এবং ২জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ গতকাল আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্তরা হলো, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হোসেনের ছেলে কবির হোসেন, কিসমত নওয়াপাড়ার মধু ড্রাইভারের ছেলে সুমন ওরফে লগা সুমন, উপশহর ই-ব্লকের কুদ্দুস মাতব্বরের ছেলে জুয়েল, জালাল শেখের ছেলে সম্রাট, জাকির হোসেনের ছেলে অর্ক ওরফে সাদ্দাম, আব্দুল বারির ছেলে সেলিম রেজা, ৭ নম্বর সেক্টর এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে মফিউল্লাহ, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের আবুল কালামের ছেলে সহিদ। এ মামলায় অব্যাহতি পেয়েছে, বাঘারপাড়ার মির্জাপুর গ্রামের ইউনুচ আজিজের ছেলে বাহাদুল ইসলাম ময়েন।
জানাগেছে, নতুন উপশহরের জুলফিকার আলীর ছেলে তানজিম আল শাকিক আলভি যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হোসেনের ছেলে কবির হোসেনের সাথে আলভির বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে আলভিকে হত্যার জন্য একাধিকবার কবিরের নেতৃত্বে তার সহযোগী সুমন, সাদ্দাম, জুয়েল, সম্রাট মফিউল্লাহ সেলিম মোহন ও সহিদ চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু ইতিপূর্বে একাধিকবার আলভিকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এর পর কবিরের পরামর্শে সেলিম ও সহিদ আলভির সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারা দু’জন আলভির গতিবিধি লক্ষ্য করে। এছাড়া সব সময়ই তার অবস্থান সম্পর্কে কবিরকে অবহিত করে। ঘটনার দিন গত বছরের ৩০অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেলিম আলভিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। বিভিন্ন স্থানে ঘোরা ফেরার পরে রাত ৯টার দিকে উপশহর ট্রাক স্ট্যান্ডের একটি দোকানে চা পান করে। এ সময় সেলিম আলভির মোবাইল সেট নিয়ে তার ব্যবহৃত সীম বদল করে সেলিমের সীম দিয়ে কবিরের সাথে কথা বলে। ওই সময় তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে কবিরের বাড়ির পূর্ব পাশে জামান কটেজের সামনে তার সহযোগীদের থাকতে বলে। সেলিম রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলভিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে পৌছামাত্র কবিরের নেতৃত্বে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকেরা এঘিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। আলভিকে হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়। এদিকে ওই রাতেই পুলিশ সন্দেহমূলকভাবে সেলিম সহিদ ও আরিফুল ইসলাম সজিব নামে ৩ যুবককে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা আলভিকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এব্যাপারে ৯জনের নামসহ আরো ৫-৬ জনের নামে নিহতের পিতা থানায় মামলা করে। এজাহারভুক্ত ৯জন আসামির মধ্যে ঘটনার দিন আটক ৯জন ছাড়া বাকিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পুলিশ এ মামলার এজাহার ভুক্ত নয় আসামির মধ্যে ৭জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়। আর অপর ২জনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু মামলার বাদী ইতিপূর্বে দেয়া চার্জশিটের নারাজী আবেদন করেন আদালতে। আদালতের নির্দেশে পুনরায় তদন্তেও একই চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

শেয়ার