আ’লীগ নেতা নজরুল ইসলাম হত্যা ॥ মামলা তদন্তে অগ্রগতি নেই ॥আটক আসামি জামাই আদরে, যশোরে আসছেন এডিশনাল ডি আইজি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আ’লীগ নেতা নজরুল ইসলাম হত্যা মামলা তদন্তে অগ্রগতি নেই। আটক আসামি রয়েছে জামাই আদরে। এই মামলার সর্বশেষ খবর জানতে যশোরে আসছেন খুলনা রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি রফিকুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম হত্যা মামলার খোঁজ খবর নিতেই তিনি যশোরে আসছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। ২৯ অক্টোবর ফিঙে লিটন বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গুলি ও বোমার আঘাতে নজরুল ইসলাম খুন হন।
বারান্দী মোল্যাপাড়া এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে আনিচুর রহমান লিটন ওরফে ফিঙে লিটন বাহিনীর রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক। তার নেটওয়ার্কে যেমনি আছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র তেমনি আছে ডজন কয়েক সাহসী দুর্বৃত্ত। বিশেষ করে মনিহার, নড়াইল রোড ও ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তাদের কর্মকাণ্ড। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা এবং খুন খারাবিসহ নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত। এ পর্যন্ত লিটনের হত্যাকাণ্ডের শিকার আট জন। আজ অবধি তাদের অনেকের কোন বিচারও হয়নি। তারা হলো, একজন বিজিবি’র জওয়ান, চাঁনপাড়ার গোলাম নবী, ছাত্রনেতা আরমান, নীলগঞ্জের বিজিবি’র সোর্স জিয়া, মোল্লাপাড়ার রিপন, সোহাগ, বিল্লাল এবং সর্ব শেষে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম। তার বাহিনীর হাতে জিম্মি মনিহার এলাকার ব্যবসায়ীরাও। কিন্তু জীবনের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। লিটনের নামে তার বাহিনীর লোকেরা প্রতিনিয়ত চাঁদাও আদায় করে। আর এ সকল কাজে তার একান্ত সহকারী হিসেবে কাজ করে তার আপন ভগ্নিপতি সেলিম পলাশ ও মাসুদুর রহমান নান্নু। প্রতি মাসে এরা প্রায় ১৫/২০ লাখ টাকা আদায় করে। যার একটি অংশ ভারতে লিটনের কাছে পৌছে দেয়া হয়। আর তাদের এ সকল সন্ত্রাসী কাজে বাধা দেয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে থাকা কালে লিটনের ভাই ডিম রিপন ও নান্নুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সেখানে গিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে। এর পর বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পর মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের ভাগ্নি জামাই জুয়েল কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলার প্রধান আসামি সেলিম পলাশ অপারেশনের নামে শহরের একটি কিনিকে ভর্তি হয়। সেখান থেকে তাকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এখনও পর্যন্ত তাকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং সেখানে সেলিম পলাশ জামাই আদরে আছে। এ ছাড়া মামলার তৎকালিন তদন্তকারী কর্মকর্তা অন্য আসামিদেরও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করেছেন বলে একটি সূত্রে দাবি করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে নেয়ার দাবি জানান। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করেন। নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নাড়া দেয় গোটা পুলিশ প্রশাসনে। সর্বশেষ এই মামলার অগ্রগতি এবং পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে খুলনা রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি রফিকুল ইসলামের আজ কালের মধ্যে যশোরে আসার কথা রয়েছে।

শেয়ার