অভয়নগরে ইকবাল হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ৩ আসামির জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অভয়নগরে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আটক তিন আসামি। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা এ কথা স্বীকার করে। আসামিরা হলো, সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের হাচেন সরদারের ছেলে বাবু হোসেন, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের রুহুল আমিন গাজীর ছেলে রুবেল ও বনগ্রামের জামাল হোসেন ফারাজী।
এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুফ ১০নভেম্বর রাতে ডেকে একটি সুপারি বাগানের মধ্যে নিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। সোমবার এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তিনজনকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়। তারা তিনজনসহ ১৬-১৭জন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতে স্বীকার করে। আটক রুবেল তার স্বীকারোক্তিতে বলেছে ইকবাল হোসেন ওই এলাকায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকের ব্যবসা করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয় এলাকাবাসী। একই সাথে ইকবালের ভাই মেজবাহ একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। এলাকার রফিক ও সমীর তাদের খুন করতে অস্ত্র দেয় বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করে। এক পর্যায়ে মাগুরা এলাকার সমীরসহ আরো অনেকে ইকবালের এ সকল কাজের বিরোধিতা করার জন্য একটি গোপন বৈঠক করে। ওই বৈঠকে তাকে হালকাভাবে মারপিট করার কথা বলা হয়। এদিন সমীর তাদের ঘটনাস্থলে যেতে বলে। ১০নভেম্বর রাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে মাগুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সমীরের সাথে থাকা বাবু নামে একজন তাকে প্রথমে ছুরি দিয়ে কোপ মারে। এ সময় ইকবাল ও কাছে থাকা হাসুয়া দিয়ে কোপ মারে। এর পর তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। পরদিন অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। ১২ নভেম্বর নিহতের পিতা অভয়নগর থানায় ১৩ জনের নামে মামলা করেন। পুলিশ এ মামলার তিন আসামিকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। এদিন তারা তিনজনই আদালতে ইকবালকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

শেয়ার