শচীনের বিদায়ে স্মৃতিবিধুর আশরাফুল

asraful
বাংলানিউজ ॥
বিদায় নিলেন শচীন টেন্ডুলকার। তার বিদায়ে আপ্লুত ক্রিকেট বিশ্ব। তাকে যারা অনুপ্রেরণা মেনেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। ব্যাটিং লিজেন্ডের বিদায়ে মনে পড়ে গেল তার সঙ্গে নানা স্মৃতি। দুজনের মধ্যে মিলও আছে একটি জায়গায়- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের আগে ছিলেন বলবয়।
খুব ছোট্টবেলা থেকেই শচীনের ভক্ত আশরাফুল। বলবয় থাকাকালে একবার মাঠে দেখা হয়েছিল শচীনের সঙ্গে। সেবার তার সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করেননি বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান,‘ছোটবেলা থেকেই শচীন টেন্ডুলকার আমার রোল মডেল ছিল। ১৯৯৮ সালে যখন আমি অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে খেলি তখন আমার বন্ধু তাঁর পোস্টার আমাকে দিয়েছিল। আমি ছোটবেলা থেকেই উনার ভক্ত ছিলাম। অঙ্কুরে অনুশীলন করতাম ওয়াহেদ স্যারের ওখানে। উইলস কাপ ও এশিয়া কাপে যখন বল বয় ছিলাম। তখন ম্যাচ শুরুর আগে আমরা কিছুটা সময় পেতাম। ৯৮‘এর ঘটনা- নেটে বোলিং করার সময় তাঁকে কাছে পেলাম। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছবিও তুলেছি।’
২০০৪ সালে আবারও দেখা হয় শচীনের, সেবার ভারতীয় ব্যাটিং তারকা ছিলেন প্রতিপ। আর আশরাফুল জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার। ওই সময় খেলা চলাকালে টিম হোটেলে শচীনের সঙ্গে দেখাও করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক,‘২০০৪ সালের কথা। আমরা টিম হোটেলে ছিলাম। আগেও শচীনের সঙ্গে কথা হয়েছিল, কিন্তু সেবার হলো আরও অনেক কথা। বেশ কাছাকাছি গিয়ে কথা হলো। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঢাকা টেস্টে করেছিলাম ৬০ রান। পরে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মিলল।’
ভাষাগত সমস্যা ছিল আশরাফুলের, কিন্তু শচীনের সামনে যেতেই সেই সমস্যার সমাধান,‘ওই সময় আমি হিন্দি ও ইংরেজি ভালো পারতাম না। একাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। উনি নিজে থেকেই আমাকে বলল তুমি বাংলায় বলো। সব কথা ছিল খেলা নিয়ে। বললাম আমার খেলায় ধারাবাহিকতা থাকে না। বলেছিলেন প্রথমবার যতটা মনোযোগ থাকে পরেরটিতে ততটা থাকে না, ভালো করতে হলে সেটা করতে হবে। আর অন্য দল তোমার দুর্বলতা নিয়ে কাজ করে তাই তুমি ভালো কিছু করতে পারছো না। মন খুলে খেলতে বললেন। সেবারই ১৫৮ করলাম। অসাধারণ এক অনুভূতি ছিল।’
একবার শচীনের সঙ্গে একই দলে খেলার অভিজ্ঞতাও হয়েছে আশরাফুলের। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সদস্য ছিলেন বাংলাদেশের এই তারকা। সেই অভিজ্ঞতা বললেন তিনি,‘আমি যখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে সুযোগ পেলাম। আমার জন্য এটা অসাধারণ একটা মুহূর্ত ছিল। কারণ আমি উনার ভক্ত ছিলাম। ৪৫ দিন ছিলাম একই ডেসিং রুমে। একদিন বৃষ্টি হচ্ছিল, ডেসিং রুমে আমরা ক্রিকেট খেলছিলাম। তাঁর বল এতো স্পিন করে বোঝাই যায় না। একটা বলও আমি লাগাতে পারিনি। প্রায় ৬/৭ বল একটিও লাগাতে পারিনি। এছাড়া ব্যাটিং করার সময় উনি জানেন কোন বল কী হচ্ছে। এজন্যই অন্য সব ব্যাটসম্যান থেকে আলাদা উনি।’

শেয়ার