নিজামীর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আজ

বাংলানিউজ॥ একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হয়েছে। বুধবার প্রসিকিউশনের আইনি পয়েন্টে পাল্টা যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মঙ্গলবার নিজামীর পক্ষে চতুর্থ ও শেষ দিনের মতো আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন নিজামীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। এর আগে গত ৭ নভেম্বর থেকে আরও ৩ কার্যদিবসে অভিযোগভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করেছেন নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।
বুধবার পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মুলতবি করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে আইনি পয়েন্টে পাল্টা যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করবেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও মোহাম্মদ আলী।
এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া। এরপর আইন অনুসারে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ কার্যদিবসে নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও মোহাম্মদ আলী।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
নিজামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ৩৩৬ পৃষ্ঠার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থা। আর আনুষঙ্গিক কাগজপত্রসহ প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়।
তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। এতে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, খুন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৫টি অভিযোগ আনা হয়।

শেয়ার