‘ধারে প্রদত্ত, ফেরত দিতে হইবে’॥ খুলনায় সরক বইয়ে ফেরতের শর্তযুক্ত সিল ব্যবহার

khulna
খুলনা ব্যুরো॥ সরকার শিাবর্ষের প্রথমেই দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শতভাগ নতুন পাঠ্য বই বিতরণ করে আসছে। শিা দপ্তর বলছে, বিতরণকৃত বই শিার্থীদের কাছ থেকে ফেরত নেয়া হয়না। অথচ শিা কর্মকর্তাদের উদাসীনতার সুযোগে খুলনার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণের সময় ফেরতের শর্তযুক্ত সীল প্রদান করা হয়েছে। যাতে লেখা থাকছে, ‘ধারে প্রদত্ত, ফেরত দিতে হইবে’। এ প্রক্রিয়ায় বিতরণকৃত পাঠ্য বই কৌশলে ফেরত নিয়ে তা বিক্রি করে অর্থ শিক্ষকরা পকেটস্থ করছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খুদে শিার্থীদের মাঝে বিতরণকৃত বইয়ের প্রত্যেকটিতে দুটি করে সীল ব্যবহার করা হয়েছে। ‘বই বিতরণ-২০১৩’ উল্লেখ করে প্রতিটি বইয়ের কভারের উপর থানা শিা অফিসের নামে এবং বইয়ের ভেতরে লেখক পরিচিতি পাতায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নামে আরও একটি সীল দেয়া হয়েছে। উভয় সীলেই ‘ধারে প্রদত্ত, ফেরত দিতে হইবে’ লেখা রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে সম্প্রতি নগরীর দৌলতপুরস্থ কার্ত্তিককুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষিকা গনমাধ্যম কর্মীদের কাস রুমে প্রবেশ করতে দেননি। তবে কাস রুমের বাইরে উর্মি, পপি ও রুমানাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বইয়ে সীল দেখতে পেয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে। চলতি শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণের সময় ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণকৃত ৩০৩ সেট বই এর সবগুলিতে একই সীল দেয়া হয় বলে জানা গেছে। প্রধান শিকিা রাজিয়া সুলতানা গত শিক্ষাবর্ষের বইও একই সীল লাগিয়ে বিতরণ করে পরবর্তীতে তা ফেরত নিয়ে বিক্রি করে দেন। এছাড়া বই বিতরণের সময় তিনি শিার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগও করা হয়। যা তদন্তনাধীন রয়েছে।
অভিভাবক শানু বেগম, লাভলী বেগম, রফিকুল ইসলাম ও সাবিনা বেগম বলেন, কার্ত্তিককুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া তাদের সন্তানদের প্রতিটি বইয়েই ‘ধারে প্রদত্ত, ফেরত দিতে হইবে’ কথাটি লেখা রয়েছে। তবে কি কারণে এ ধরণের সীল মারা হয় সেটি তারা জানেন না। কিন্তু প্রতি বছর নতুন বই দেয়ার আগে পুরণো বই ফেরত দিতে হয় বলে জানান তারা।
বই বিতরণের সময় নগরীর বিনাপানি কাস্টারে দায়িত্বরত সহকারী থানা শিা অফিসার (এটিইও) নূর-এ লায়লা বলেন, বইয়ে থানা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট স্কুলের নামে সীল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ‘ধারে প্রদত্ত, ফেরত দিতে হইবে’ এ ধরণের কিছু লেখার কথা না। বিষয়টি তার জানা নেই। সদর থানা শিা অফিসার রীনা পারভীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোন কোন স্কুলে ভুলক্রমে এ ধরণের সীল ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এবার আর ভুল হবেনা। বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) অশোক কুমার সমদ্দার বলেন, কয়েক বছর আগে সরকারি বই যখন পর্যাপ্ত পরিমানে প্রদান করা হতনা। তখন শিক্ষাবর্ষ শেষে বই ফেরত নেয়ার জন্য ওই সীল ব্যবহার করা হত। কিন্তু ৩/৪ বছর ধরে বিনামূল্যের বই পর্যাপ্ত থাকায় এ ধরণের সীল ব্যবহার করা হয়না। এরপরও যদি কোন প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের সীল ব্যবহার এবং বই ফেরত নেয়া হয় তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিনামূল্যে বই দেয়ার পরও তাতে ‘ধারে প্রদত্ত, ফেরত দিতে হইবে’ এ ধরণের সীল ব্যবহারকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান। তিনি বলেন, যারা শিক্ষার নামে এ ধরণের অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

শেয়ার