কমনওয়েলথ সম্মেলন

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলোম্বোয় শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন। শুক্রবার সম্মেলন উদ্বোধন করেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের পে তাঁর পুত্র প্রিন্স চার্লস। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কমনওয়েলথভুক্ত ৪৯টি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দেন। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় তামিলবিরোধী অভিযানকালে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে এবারের কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন বয়কট করেছে ভারত, কানাডা ও মরিশাস। তবে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজা পাকসে সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত ভাষণে তাঁর দেশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জনগণের জানমাল রার স্বার্থেই শ্রীলঙ্কা সরকার তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশিক দেশগুলো নিয়ে যখন কমনওয়েলথ গঠিত হয়েছিল, তখন অনেকের ধারণা ছিল সর্বেেত্র প্রধানত ব্রিটেনের আধিপাত্য এ সংগঠনটিতে বজায় থাকবে। কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণিত করে ইতোমধ্যে কমনওয়েলথে নানা ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তন হয়েছে।
যদিও সদস্যভুক্ত দেশগুলো একদা ব্রিটিশ উপনিবেশভুক্ত হওয়ার কারণে এখানে কিছু েেত্র অভিন্ন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ল্য করা যায়। এ দেশগুলোতে ইংরেজী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হিসেবে চালু রয়েছে। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও বিচারব্যবস্থাও এ দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রভাব রেখেছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে তা মোটেই খারাপ নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে, কমনওয়েলথের সদস্য প্রতিটি দেশই এখন সম্পূর্ণরূপে স্বীধান ও সার্বভৌম। নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রায় পদপে গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে।
তবে সদস্য দেশগুলো বহুমাত্রিক উন্নয়নের েেত্র একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে। উন্নয়নের ল্েয এ দেশগুলোতে রয়েছে বিপুল সম্পদ। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে বসবাস করে। বিশ্বের মোট জমির এক-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে এ দেশগুলো অবস্থিত। কিন্তু সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পদের েেত্র ব্যাপক বৈষম্য ও ব্যবধান বিরাজ করছে। এ কথা ভুললে চলবে না, কমনওয়েলথভুক্ত কয়েকটি দেশ যেমন খুবই ধনী তেমনই সদস্য কয়েকটি দেশে বিপুলসংখ্যক গরিব মানুষের বসবাস। একটি কল্যাণকামী আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে কমনওয়েলথ সদস্য দেশগুলো অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া শিা, স্বাস্থ্যসেবা, মানব উন্নয়ন প্রভৃতি েেত্র সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ সহযোগিতা গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে নিঃসন্দেহে সংস্থার কার্যকারিতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।
কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে অবাধ আলেচনার সুযোগ অব্যাহত রাখা উচিত। এর ফলে সদস্য অনেক রাষ্ট্রই হয়ত স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির পথ থেকে সরে আসবে। যেমন এবার কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে ব্যর্থ হওয়ায় মালদ্বীপের সমালোচনা করেছেন; তাঁরা সম্মেলন থেকে মালদ্বীপকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। আমরা চাই, সদস্য দেশগুলোর সবধরনের উন্নয়নে কমনওয়েলথ একটি কার্যকর সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠুক।

শেয়ার