অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু ॥ প্রথম দিনে যশোরে আটক ৬০

Asami atok
লাবুয়াল হক রিপন॥
নাশকতা এড়াতে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গতকাল থেকে যশোরে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ অভিযান। প্রথম দিনেই জেলার ৮ উপজেলা থেকে ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, বোমাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বাকি ৩৯ জনকে জেলার অন্য ৮ টি থানা পুলিশ আটক করে। কোতোয়ালি থানা থেকে আটককৃতরা হলো, শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার রমজান আলী মিন্টু, সুমন মিয়া, সাগর, আব্দুস সামাদ, আমিরুল ইসলাম, ওবায়দুল্লাহ, বারান্দী মোল্যা পাড়ার রবিন হোসেন, ডালমিল এলাকার শরিফুল ইসলাম স্বপন, সবুজ হোসেন, রেলগেট এলাকার আশরাফুল কবির সিকদার, বেজপাড়ার রুবেল, সিটি কলেজ পাড়ার আশিকুজ্জামান, মোস্তফা তারিক পিন্টু, শিমুল, জনি, সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের লাভলু মোড়ল, তপসী ডাঙ্গা গ্রামের শহিদ, জবেদা, মন্ডলগাতি গ্রামের হেমায়েত ও বিরামপুর গ্রামের আব্দুর রহিম।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) রেশমা শারমিন জানান, সম্প্রতি ১৮ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা সারা দেশে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ভাংচুর লুটপাটসহ নানা ধরনের অপরাধ শুরু করে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয় পড়ায় ঘুরে দাড়িয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে রোববার রাত থেকে তারা শুরু করে অপরাধীদের আটকের জন্য বিশেষ অভিযান। অভিযানে অংশ নেয় কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক টিম। পুলিশ জানায় আটক শরিফুল ইসলাম স্বপন প্রতিদিন হাজার হাজার বোতল ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করেন। পাশাপাশি তিনি চোরাই প্রাইভেট-মাইক্রোবাস কেনা বেচার কাজও করেন। কয়েকমাস আগে পুলিশ তাকে ফেনসিডিলসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসারও অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযানে পুলিশ শহরের ষষ্ঠীতলার সন্ত্রাসী আশরাফুল কবির সিকদারকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
অপর দিকে গত ২৭ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা মামলায় আটক করা হয়েছে সাগর, আব্দুস সামাদ ও আমিরুল ইসলামকে। এ ছাড়া আটক অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
বিশেষ অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় ২০জন, বেনাপোল বন্দর থানায় ১০জন, চৌগাছা থানায় ৮জন, কেশবপুরে ৬জন, মণিরামপুরে ৫জন, বাঘারপাড়ায় ৪জন, ঝিকরগাছায় ৩জন, অভয়নগরে ২জন ও শার্শা থানায় ১জন রয়েছে।
এছাড়া কোতোয়ালি থানায় ১টি ও অভয়নগর থানায় ১টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একইসাথে ১২টি হাতবোমা, ১৮৭বোতল ফেনসিডিল ও ২কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

শেয়ার