১০ দিনের হরতালে ক্ষতি ২ হাজার কোটি টাকা

germent
বাংলানিউজ ॥
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সমাবেশের পরে দেওয়া মোট ১০ দিনের হরতালে পোশাক শিল্পের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরতালের একদিনে পোশাক শিল্পে উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। এর পাশাপাশি আছে অন্যান্য ক্ষতিও।
কখনো কখনো শিপমেন্ট বাতিল হয়। কখনো বা শিপমেন্ট ঠিক রাখার জন্য আকাশ পথে পণ্য ক্রেতাদের পাঠাতে হয়। ফলে ব্যয় বেড়ে যায়। এসব হিসাবে হরতালের একদিনে পোশাক শিল্পে ক্ষতি হয় ২শ কোটি টাকা। যা ১০ দিনে দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
বিরোধী দল হরতালে দেশের সর্বাধিক রফতানিকারক শিল্প পোশাক খাতকে আওতামুক্ত ঘোষণা দিলেও এর সুবিধা উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত ঘোষণা করা হলেও এর সুফল পাচ্ছি না আমরা। এর ফলে সবার মধ্যেই নানা উৎকষ্টা বিরাজ করে। উৎপাদন ব্যাহত হয়। ক্রেতারাও আর আগের মতো আমাদের এখানে আসছে না। ফলে অর্ডারও কমছে উল্লেখযোগ্য হারে। অনেক সময় দেখা যায় হরতালের কারণে কারখানার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে এফবিসিসিআই’র তথ্য আরো ভয়াবহ। এফবিসিসিআই’র তথ্য অনুযায়ী, একদিনের হরতালের দেশের পোশাক শিল্পের সামগ্রিক ক্ষতি প্রায় ৩৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
হরতালে নৈরাজ্যের কারণে বিদেশি বিনিয়োগতকারীরা এখন আর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে না বলেও জানিয়েছে বিজিএমইএ। অনেক ক্রেতার বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিদর্শনের কথা থাকলেও চলমান সহিংসতায় তা আর সেভাবে হচ্ছে না।
হরতাল ও সহিংসতার কারণে দেশের পোশাক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান।
বাংলানিউজকে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখা হলেও তৈরি পণ্য ঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে পারছেন না মালিকরা। ফলে ঠিক সময়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে পেমেন্টও পাচ্ছে না। পোশাক শিল্প হুমকির মুখে পড়া মানে পুরো অর্থনীতিই হুমকির মুখে পড়া।
এ বিষয়ে বিরোধী দলকে আরো নজর দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় পোশাক শিল্পে অর্ডার কমেছে ৪০ শতাংশ। এর মূল্যমান প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এ পরিমাণ আরো ২০ শতাংশ কমে যাবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
শুধু তাই না পোশাক শিল্পের ভারি মেশিনারি আমদানিও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বিজিএমইএ’র হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে ভারী মেশিনারি আমদানি করা হয়েছে মোট ৩২ মিলিয়ন ডলারের। আর অক্টোবর মাসে ভারী যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, পোশাক শিল্পের শুল্ক মুক্ত আমদানির সনদ ইউডি এর পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ইউডি খোলা হয়েছিলো ৩ হাজার ৩৮টি। একই বছর অক্টোবর মাসে ইউডি খোলার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩টিতে।

শেয়ার